Article By – সুনন্দা সেন

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস মিনিস্ট্রি হরদ্বীপ এস পুরি (Hardeep S Puri) বলেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্ব বাজারে আরও তেল প্রবেশ করার সাথে সাথে এনার্জির দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে পুরি বলেছেন যে নতুন মার্কিন প্রশাসনের সাথে ভারত কন্ট্যাক্ট স্থাপন করেছে। জ্বালানি বা এনার্জির ক্ষেত্রে ভারত-আমেরিকান রিলেশন আরও গভীর হবে। তিনি এছাড়াও স্পষ্ট করে বলেন যে ভারতের প্রাথমিক লক্ষ্য হল মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য ‘কম দামে’ পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করা।
পুরির মতে, ভারত আর্জেন্টিনা সহ ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করে। তিনি এও স্পষ্ট করেন যে এখন নতুন নয় আগে থেকেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডলারের সাথে লেনদেন হয়ে থাকে। এদিকে ট্রাম্প বার্তা দিয়েছে যে ড্রিল, বেবি ড্রিলের আরও তেল খনন হবে। কারণ তিনি আন্তর্জাতিক ভাবে তেলের দাম কমাতে চান। যার পরিপ্রেক্ষিতে পুরি জানিয়েছে যে বিশ্বব্যাপী এনার্জি বা জ্বালানি পরিস্থিতি উন্নত হবে, বাজারে আরও জ্বালানি প্রবেশ করবে। যা থেকে আশা করা যায় যে এটি এনার্জির দাম কমাতেও সাহায্য করবে। আর যখন কম দামে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি পাওয়া যায়, তখন এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। আর ভারতের উদ্দেশ্য হল মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কম দামে তেল সংগ্রহ।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, ভারত ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দামে জ্বালানি কিনছে। বিশ্বে জ্বালানি ঘাটতি দেখা যায়নি। ভল্টে সম্প্রতি বিশ্ব বাজারের তুলনায় বেশি তেল প্রবেশ করছে। পুরি জানিয়েছেন, ব্রাজিল আগে প্রতিদিন ৩০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করত, এখন অতিরিক্ত ১,৪০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ ব্যারেল উৎপাদন করছে। গায়ানা, সুরিনাম এবং কানাডা থেকে বেশিরভাগই তেল আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতদিন ১৩ লক্ষ ব্যারেল উৎপাদন করে। অবশ্য অনুমান করা যাচ্ছে যে অতিরিক্ত ১.৬ লক্ষ ব্যারেল তেল আরও উৎপাদন করবে।
দেশে জ্বালানি খরচের বিষয় পুরি বলেছেন, ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে গত তিন বছরে পেট্রোলের দাম কমেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাকিস্তানে প্রায় ৪৮%, বাংলাদেশে ১৪.৭%, শ্রীলঙ্কায় ৩৭%, নেপালে ১৬.২%, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৪.২%, ইতালিতে ৪.৮%, স্পেনে ৪.২%, জার্মানিতে ২% এবং ফ্রান্সে ৪.২% পেট্রোলের দাম বেড়েছে। যেখানে একই সময়কালে ভারতে পেট্রোলের দাম ০.৭% কমেছে। এছাড়া উজ্জ্বলা প্রকল্পের অধীনে ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডার ৫০০ টাকায় সরবরাহ করা হয়।




