Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে দ্রুত বাড়ছে আইফোন উৎপাদন, আর তার প্রভাব পড়ছে দেশের উৎপাদন খাতে। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপেল (Apple) এখন ভারতের বড় উৎপাদনকারী কোম্পানির সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে আয়ের দিক থেকে। আইফোন উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ার ফলে কোম্পানির ভারতে তৈরি পণ্যের মোট মূল্য এখন শীর্ষ ভারতীয় নির্মাতাদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। ভারতের বড় বড় উৎপাদনকারী সংস্থার সমতুল্য আইফোনের আয় হওয়ায় দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
সরকারকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ভারতে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের আইফোন উৎপাদন হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় (রুপি) যার মূল্য প্রায় ২.৩২ লক্ষ কোটি টাকা। বাজারমূল্য হিসেবে এই সংখ্যা আরও বেশি, অনুমান করা হচ্ছে যে আইফোন উৎপাদন মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বলে। এর বড় অংশই রপ্তানি হয়েছে বিদেশে। ২০২৫ সালে ভারত থেকে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের আইফোন রপ্তানি হয়েছে। এর ফলে স্মার্টফোন এখন ভারতের অন্যতম বড় রপ্তানি পণ্য হয়ে উঠেছে এবং মোট স্মার্টফোন রপ্তানি প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের স্তর স্পর্শ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ বা PLI স্কিমের। এই নীতির ফলে আন্তর্কাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ভারতে উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হয়েছে। বর্তমানে ভারতে আইফোন তৈরি করেছে বেশ কয়েকটি বড় চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা সংস্থা; যেমন ফক্সকন (Foxconn) এবং টাটা ইলেকট্রনিক্স (Tata Electronics)। এর মূলত দক্ষিণ ভারতের কারখানাগুলোতে আইফোন সংযোজন করে থাকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, বিশ্ববাজারে সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্য আনতে চীন থেকে উৎপাদনের একটি অংশ ধীরে ধীরে ভারতে সরিয়ে আনছে অ্যাপল। ফলে ভারতে আইফোন উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে এবং আগামী কয়েক বছরে এই প্রবণতা আরও জোরদার হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু একটি কোম্পানির সাফল্য নয়, বরং ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়ছে, রপ্তানি বাড়ছে এবং বিশ্ব প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।




