Article By – সুনন্দা সেন

রাশিয়া থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া তেলবাহী জাহাজ মাঝপথে দিক বদলে ভারতে চলে আসছে, আর এই ঘটনাই এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় আলোচনার বিষয়। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের ধরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, রাশিয়ার একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রথমে চীনের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু মাঝসমুদ্রে সেই জাহাজগুলো তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করে ভারতের দিকে রওনা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ‘মিড-রুট ডাইভার্সন’ খুব একটা সাধারণ ঘটনা নয়, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি ক্রমশ বাড়ছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে ভারতে। যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। তাই এই মুহর্তে দেশটি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং সম্ভাব্য ঘাটতি এড়াতে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলো দ্রুত রাশিয়ার তেল কেনার দিকে ঝুঁকছে। ফলে সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলোকেও ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও জানা গেছে, US-এর পক্ষ থেকে কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেল কেনা সহজ হয়েছে। এই সুযোগে ভারত অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ তেল সংগ্রহ করেছে। এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কেনার খবর সামনে এসেছে, যা এই পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। অন্যদিকে চীন এই ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। যদিও তারা দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার বড় ক্রেতা, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা ও ঝুঁকির কারণে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। সেই সুযোগেই ভারত দ্রুত বাজারে এগিয়ে এসে সরবরাহ নিজের দিকে টেনে নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাটি দেখিয়ে দেয় যে বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি বাণিজ্য কতটা দ্রুত ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ, সব মিলিয়ে মুহুর্তের মধ্যে বাণিজ্যের দিক বদলে যাচ্ছে। বলা চলে, রাশিয়ার তেল চীন থেকে ঘুরে ভারতে আসা শুধুমাত্র একটি সাময়িক ঘটনা নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতির বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনে এই ধরনের পরিবর্তন আরও দেখা যেতে পারে।




