Article By – সুনন্দা সেন

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাত যদি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকে, তাহলে ভারতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক রিসার্চ সংস্থা মুডিসের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করে জ্বালানি আমদানি ওপর, আর সেই আমদানির বড় অংশই আসে গালফ অঞ্চল থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু ভারত জ্বালানি ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভর, যার প্রভাব পড়বে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে।
বর্তমানে ভারতে প্রায় ৪৫% থেকে ৫০% অপরিশোধিত তেল আসে গালফ অঞ্চল থেকে। যদি এই সংঘাতের জন্য তেল সরবরাহ ব্যহত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। যদি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার বা বেশিতে ওঠে, সেক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়বে। যার প্রভাব পরিবহন খরচ বাড়াবে এবং তার ফলে খাদ্যদ্রব্য সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে।
এই অস্থিরতার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর। ডলারের তুলনায় রুপির মান দুর্বল হয়ে পড়ছে, যার ফলে আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এর ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে পারে এবং অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের GDP বৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে। শুধু ভারত নয়, গোটা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়, সেই রুটেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে। যদি এই পথ ব্যাহত হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের মতো আমদানি নির্ভর দেশের ওপর। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্র সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী রয়েছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে দেশের ওপর প্রভাব কমানো যায়।




