Article By – সুনন্দা সেন

আজ আন্তর্জাতিক এনার্জি বাজারে বড় ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্স’র সাম্প্রতিক ক্যালকুলেশন অনুযায়ী, রাশিয়ার তেলের রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ৪০% বন্ধ বা স্থগিত হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশটি বাজারে বিশাল ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন ব্যাপকভাবে ড্রোন আক্রমণ করে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি রপ্তানি অবকাঠামোতে আঘাত হানছে, যার ফলে নোভোরোসিস্ক, প্রিমোরস্ক ও উস্ত‑লুগাসহ পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান তেল বন্দরগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে।
এই হামলায় শুধু বন্দরের কার্যক্রমই থেমে নেই, বিভিন্ন পাইপলাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হচ্ছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এই ধাক্কায় প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের রপ্তানি ক্ষমতা বন্ধ, যা রাশিয়ার সম্পূর্ণ এক দিনের রপ্তানির প্রায় ৪০ % সমান। এই পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক সরবরাহ বিঘ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে খেয়াল রেখে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, এবং এমন সময় রাশিয়ার রপ্তানি বন্ধের খবর তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে, যা বাজারে উৎসাহ‑উত্তেজনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার তেল রপ্তানির এই বিঘ্ন শুধু দেশটির রাজস্ব ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে না, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য স্থিরতা ও বাণিজ্য রুটগুলোতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এটি রাশিয়ার জন্য ব্যাক্তিগতভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ তেল রাজস্ব দেশটির বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজার ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কেমন আসে, তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। এছাড়া চলতে থাকা ইরান – ইসরায়েল – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের সরবরাহে পড়ছে। অর্থাৎ দুই পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।




