Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের জ্বালানি বাজারে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)-এর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর রাশিয়ান বড় তেল উৎপাদক Rosneft এবং Lukoil-এর সঙ্গে লেনদেন কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ হয়েছে। যার কারণে ভারতের রাশিয়া নির্ভর কমমূল্যে ক্রড অয়েল আমদানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। তথ্য বলছে, নভেম্বর মাসে ভারতের রাশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের পরিমাণ প্রায় ৫০% কমে গেছে। আর অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বরে দৈনিক প্রবাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। যার প্রভাব পড়ছে ভারতের শীর্ষ অয়েল ও গ্যাস রিফাইনারি (পরিশোধনাগার)-এর ওপর। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা ডিসেম্বর থেকে রাশিয়ার ক্রড আমদানি করবে না।
নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকি এবং ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ভয়ে রিলায়েন্স রিফাইনারির মতো ভারতের অন্যান্য রিফাইনারিও রাশিয়ার নিষিদ্ধ সংস্থাগুলোর সাথে নতুন করে এবং পুনরায় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সতর্কতা অবলম্বন করছে। আর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ভারতের পক্ষে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। কারণ ভারত তার মোট ক্রড চাহিদার ৮৯% আমদানি করে। আর রাশইয়া থেকে পাওয়া সসস্তা ক্রড গত তিন বছর ধরে ভারতের রিফাইনারি মার্জিনকে শক্তিশালী রেখেছিল। এখন সেই উৎসে বাঁধা আসায় মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকার দিকে ঝুঁকছে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো।
তবে সেই তেল তুলনামূলকভাবে দামি—ফলে ভবিষ্যতে পেট্রোল-ডিজেলের মূল্য, রিফাইনারি মার্জিন এবং দেশের সামগ্রিক আমদানি ব্যয়ে প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া শিপিং-লজিস্টিকেও চাপ বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রে আটকে আছে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল রাশিয়ান তেল, যেগুলোর গন্তব্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বেড়েছে ফ্রেট রেট এবং ডেলিভারি সময়। অবশ্য এর পরেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত রাশিয়া থেকে পুরোপুরি আমদানি বন্ধ করবে না, তবে নিষিদ্ধ কোম্পানির বদলে বিকল্প রাশিয়ান সরবরাহকারী বা মধ্যস্থতাকারীকে বেছে নেবে। আগামী কয়েক মাসে ভারতের জ্বালানি নীতি ও আমদানি কৌশলে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।




