Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের মুদ্রাবাজার বড় ধাক্কা। ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে ঐতিহাসিক ভাবে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। আজকের লেনদেনে রুপির দাম একসময় ৯২.৬২ টাকা প্রতি ডলারের স্তর ছাঁড়িয়ে যায়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত। ইরানসহ ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। ভারত যেহেতু তার মোট তেলের প্রায় ৮০% আমদানি করে, তাই তেলের দাম বাড়লেই বেশি ডলার খরচ করতে হয়। এর ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং রুপির ওপর চাপ তৈরি হয়।
এর পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আচরণও রুপির পতনে বড় ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিচ্ছেন। তারা শেয়ার বিক্রি করে সেই টাকা ডলারে রূপান্তর করছেন, ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং রুপির মূল্য কমছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার সময়ে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারকে বেছে নেন। আর এই ‘সেফ হ্যাভেন’ প্রবণতার কারণে মার্কিন ডলার আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের জীবনেও। প্রথমত, পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের দামও বাড়তে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। আর পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই বাজারে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে ডলার বিক্রি করে রুপির পতন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকে, তাই রুপির ওপর চাপ বজায় থাকতে পারে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওপর। যদি উত্তেজনা কমে, তাহলে রুপির ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়, তাহলে রুপির মূল্য আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




