Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে পাইকারি মূল্যস্ফীতি অর্থাৎ WPI (Wholesale Price Index) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.১৩%-এ, যা গত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলেই এই উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে মূল্যবৃদ্ধি এই সূচককে উপরে দিকে নিয়ে যেতে পারে। ক্রড অয়েলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের উপর। এর ফলে পরিবহন খরচ বাড়ে এবং সেই চাপ ধীরে ধীরে অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবার উপরেও পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, WPI বাড়া মানে উৎপাদন স্তরে খরচ বাড়ছে। অর্থাৎ, কারখানায় পণ্য তৈরি করতে বেশি খরচ হচ্ছে। এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার উপর পড়তে পারে, যার ফলে খুচরা মূল্যস্ফীতিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। লোহা, ইস্পাত, রাসায়নিক দ্রব্য এবং অন্যান্য শিল্পপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। যদিও কিছু খাদ্যপণ্যের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে পাইকারি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এতে দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI- এর নীতিনির্ধারণেও প্রভাব পড়তে পারে। সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




