রিটেল বা খুচরো বিনিয়োগকারী হলেন একক একজন ইনভেস্টর যাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের জন্য ট্রেড করেন, কিন্তু ইনস্টিটিউশনাল বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হল কোনো সংস্থা বা অর্গানাইজেশন যারা অন্যের হয়ে বড় অঙ্কের মূলধন পরিচালনা করে। রিটেল বিনিয়োগকারীরা অল্প অঙ্কের মূলধন নিয়ে কাজ করেন এবং এঁরা কম সময়ের জন্য বিনিয়োগ করেন। তবে ইনস্টিটিউশনাল বা সংস্থার কাছে যথেষ্ট রিসোর্স থাকে এবং এদের বিনিয়োগের মেয়াদ লং টার্ম হয়। আমরা আজকে জানব রিটেল এবং ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর কারা এবং এই দুই বিনিয়োগের পার্থক্য কী।
রিটেল বিনিয়োগকারী : খুচরো বিনিয়োগকারী নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে কেনা-বেচার জন্য বিনিয়োগ করেন। এঁদের বিনিয়োগের অঙ্ক কম হয় এবং বিনিয়োগকারীদের ইনভেস্টমেন্টের লক্ষ্য থাকে সাধারণত অবসরের জন্য সঞ্চয় বা আর্থিক লক্ষ্য পূরণ।
রিটেল বিনিয়োগকারীরা নিজেদের ইনভেস্টমেন্ট নিজেরাই ম্যানেজ করবে তার জন্য অন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। ট্যাক্স দেওয়ার পর মুনাফা হোক বা ক্ষতি, পুরোটাই বিনিয়োগকারীদের বহন করতে হয়। ফলে নিজের বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ দায় থাকে একক রিটেল ইনভেস্টরদের ওপর। এই বিনিয়োগকারীদের বেশি transaction fee দিতে হয় এবং রিটেল বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানি বা বিনিয়োগ সম্পর্কে কম তথ্যের অ্যাক্সেস থাকে, ফলে কম রিসোর্সের জন্য পর্যাপ্ত অ্যানালাইসিস সম্ভব হয় না। তাছাড়াও তাঁদের ট্রেডের পরিমাণ কম থাকে বলে সমগ্র মার্কেট প্রাইসে খুব কম প্রভাব ফেলে।
তবে গত কয়েক বছরে আর্থিক সচেতনতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে এবং বেশি সংখ্যক রিটেল ইনভেস্টর স্টক ও বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ করছেন।
ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর : এই সংস্থাগুলি বড় অঙ্কের সিকিউরিটির কেনা বেচা করে। যেমন পেনশন ফান্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, হেজ ফান্ড, ইনসিওরেন্স কোম্পানি ইত্যাদি।
যেহেতু এরা একটি সংস্থা যেখানে একাধিক মানুষ যুক্ত থাকে তাই পর্যাপ্ত রিসার্চ এবং জটিল বিনিয়োগ কৌশল ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। সমগ্র মার্কেটের দামে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে ইনস্টিটিউশনাল ইন্ভেস্টররা। তার কারণ তাদের বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত রিসোর্স।
ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরকে আরও দুটি ভাগে ভাগ করা হয় —
1. DII (Domestic Institutional Investor)
2. FII — (Foreign Institutional Investor)
অর্থনীতিতে যখন মন্দা দেখা দেয় সেই সময় FII তাদের শর্ট টার্ম বিনিয়োগ নিয়ে অন্য দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজে যেখানে রিটার্ন বেশি।
কিন্তু DII এই বিষয়টি করতে পারে না, কারণ তাদের বিনিয়োগ মূলত দীর্ঘ মেয়াদের হয়ে থাকে।
Foreign institutional investor-রা একটি ডোমেস্টিক কোম্পানির কত শতাংশ কিনতে পারবে তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, DII অর্থাৎ domestic institutional investor-দের ক্ষেত্রে এইরকম কোনো বাধ্যতা নেই।
রিটেল এবং ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরের eপার্থক্য
| Retail investors | Institutional investors |
| রিটেল বিনিয়োগকারীদের ট্রেডের পরিমাণ তুলনায় কম, মোটামুটি কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ। | ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর বড় অঙ্কের ট্রেড করে যেখানে কয়েক কটি টাকা যুক্ত থাকে। |
| খুচরো বিনিয়োগকারীরা সাধারণত রাউন্ড লটে শেয়ার কেনেন, যেমন একবারে ১০০ টি শেয়ার। | অন্যদিকে, ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টররা ব্লক ট্রেডে শেয়ার কেনে, যেমন একেবারে ১০০০০ শেয়ার। |
| রিটেল ইনভেস্টমেন্ট, মার্কেটে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। | ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টমেন্টের ভলিউম বেশি থাকার জন্য এই বিনিয়োগ মার্কেটের গতিবিধি পরিবর্তন করতে সক্ষম। |
| রিটেল বিনিয়োগে উচ্চমানের diversification করা বেশ কঠিন। | ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের কৌশল ভিন্ন, এবং এদের যথেষ্ট রিসোর্স থাকায় পোর্টফোলিও ডাইভারসিফাই করা সহজ। |
| রিটেল বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেড করতে সাধারণত কম অভিজ্ঞ, ফলে তাঁরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিজেদের আবেগ ব্যবহার করে ফেলেন। | অর্থনৈতিক দিক থেকে ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর অনেক বেশি অভিজ্ঞ। |
একটি দেশের আর্থিক বাজারের উন্নতি ও যথাযথ পরিচালনার জন্য এই দুই ধরনের বিনিয়োগকারীই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে।





