Inflation বা মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বিনিয়োগের রিটার্ন কমিয়ে দেয়। ফলে আপনি যখন বার্ধক্যের জন্য সঞ্চয় করবেন সেই সময় এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখা প্রয়োজন।
অবসর সময় মানুষের জীবনের এমন একটি পর্যায় যেখানে সকলেই চান শান্তি এবং নির্ঝাঞ্ঝাটে কাটাতে, যেখানে থাকবে না কোনো আর্থিক চিন্তা। তবে যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তাতে অবসরের সময়ে রোজগারবিহীনভাবে সুখকর জীবন কাটানো বা বজায় রাখা কঠিন। ফলে, দেখে নেওয়া যাক মুদ্রাস্ফীতির জন্য আগামী দুই থেকে তিন দশকে মাসিক খরচ কেমন হতে পারে।
মাসিক খরচে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব:
সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে পণ্য ও পরিষেবার দাম বাড়তে থাকলে তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। এমনকি মাত্র 5% বা 6% বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির কারণে মাসিক খরচ ২০, ২৫ বা ৩০ বছরে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাড়ে। অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক বিষয় হল মুদ্রাস্ফীতি এবং অবসর সময়ের পরিকল্পনার জন্য মুদ্রাস্ফীতি বড়সড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সেইজন্য ভবিষ্যতের অধিক খরচ সম্পর্কে বুঝতে মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রাখা দরকার।
আমরা দেখে নেব প্রতিদিনের খরচ আগামী সময়ে কী হারে বাড়তে পারে
| বর্তমান মাসিক খরচ | ২০ বছর | ২৫ বছর পর | ৩০ বছর পর |
| ২০,০০০ টাকা | ৬৪,১৪৩ টাকা | ৮৫,৮৩৭ টাকা | ১,১৪,৮৭০ টাকা |
| ৫০,০০০ টাকা | ১.৬০ লাখ টাকা | ২.১৫ লাখ টাকা | ২.৮৭ লাখ টাকা |
| ৭০,০০০ টাকা | ২.২৪ লাখ টাকা | ৩ লাখ টাকা | ৪.০২ লাখ টাকা। |
অবসরকালীন পরিকল্পনার জন্য কোন বিষয়গুলি নজর রাখা দরকার?
অবসরের জন্য যাঁরা পরিকল্পনা করছেন তাঁদের মনে রাখা প্রয়োজন বার্ধক্য সময়ে আয়ের সুযোগ বন্ধ থাকে। ফলে এমনভাবে অবসরকালীন পরিকল্পনা করা উচিত যাতে মোট সঞ্চিত অর্থ বাড়তে থাকা দৈনন্দিন খরচের জন্য যথেষ্ট হয়। সেই জন্য অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হল মুদ্রাস্ফীতির যথাযথ অনুমান না করতে পারায় সময়ের আগেই retirement corpus নিঃশেষ হয়ে যাওয়া। দেখে নেওয়া যাক এই খরচগুলি কীভাবে বিবেচনা করা যায়।
- ন্যূনতম প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিকল্পনা করুন: যাঁরা অবসর নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ে দেখা যায় ন্যূনতম বা বেসিক খরচ যেমন খাবার, ইউটিলিটি এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত খরচের কথা বিবেচনা করেন। তবে ঘুরতে যাওয়া, বিনোদন, পারিবারিক উপহার ইত্যাদি খরচগুলি উপেক্ষিত হয়ে যায়। আয় মুদ্রাস্ফীতির কারণে এই খরচগুলি প্রাথমিক উদ্বেগের চিন্তা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ বর্তমানে যে খরচ ৩০ হাজার টাকায় হয়ে যাচ্ছে, ২০ বছর পরই সেই খরচ প্রায় ১ লাখ টাকার সমান হবে।
দীর্ঘায়ুজনিত ঝুঁকি: বর্তমানে অনেক মানুষই ৮০ বছর বা তার বেশি বছর বাঁচেন। অর্থাৎ ৬০ বছরে অবসর নেওয়ার পর আরও ২৫ বা ৩০ বছর পর্যন্ত যাতে অবসরকালীন সঞ্চয় থাকে সেই ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সেই জন্য মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকার কারণে নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে অবসরের সঞ্চয় দীর্ঘ সময় প্রসারিত হতে পারে।
স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত খরচ: সাধারণ মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ দ্রুততর গতিতে বাড়ছে। সেইজন্য 6% মুদ্রাস্ফীতি ধরে স্বাস্থ্য খরচ হিসব করলে চলবে না। সুতরাং প্রতি মাসের বাজেট করার জন্য এই বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
কীভাবে সচ্ছল অবসরকালীন কাটাবেন?
মুদ্রাস্ফীতি আমাদের প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ আপনি যদি সামান্য 6% ইনফ্লেশনের বিষয়টি বিবেচনা করেন তাহলে পরবর্তী ২৫ বা ৩০ বছরে এই মুদ্রাস্ফীতি কীভাবে অধিক দৈনন্দিন খরচ বাড়িয়ে দেয় সেই বিষয়টি বুঝতে পারবেন। সেইজন্য অবসরের কথা বিবেচনা করে আপনাকে চিন্তাশীল ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতিতে এগোনো উচিত।




