Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সালে সোনার দামে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী উত্থানের ফলে ভারতের গৃহস্থালির মোট সম্পদে এক ঐতিহাসিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোনার দামের এই র্যালির কারণে ভারতীয় পরিবারগুলোর মোট সম্পদ প্রায় ১১৭ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে সোনার দামের কারণে ঘরোয়া সম্পদ বৃদ্ধির এটি অন্যতম বড় উদাহরণ। ভারতে সোনা দীর্ঘদিন ধরেই শুধুমাত্র অলংকার নয়, বরং একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
আর শহর থেকে গ্রাম—সব স্তরের পরিবারই গয়না, সোনার বার বা কয়েনের মাধ্যমে সোনা সঞ্চয় করে রাখে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ডলার ও সুদের হারের ওঠানামা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে সোনার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার দামের উপর, যার ফলে ভারতীয় পরিবারগুলোর হাতে থাকা সোনার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সম্পদ বৃদ্ধির একটি বড় অংশই মূলত ‘কাগজে-কলমে’ সম্পদ বৃদ্ধি। অর্থাৎ, পরিবারগুলো যতক্ষণ না তাদের সোনা বিক্রি করছে, ততক্ষণ এটি নগদ অর্থে পরিণত হচ্ছে না। তবে বাস্তব দিক থেকে দেখলে, এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়িয়েছে। প্রয়োজনে গোল্ড লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ পেতে পারে, যা জরুরি খরচ বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সহায়ক হতে পারে। ২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে তুলনামূলক অস্থিরতা এবং কিছু সময়ে দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে বহু বিনিয়োগকারী নিরাপদ বিকল্প হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে ইক্যুইটি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের তুলনায় সোনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে, বিশেষ করে যদি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। অন্যদিকে, সোনার দামের এই উত্থান ভোক্তা আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাড়তি সম্পদের অনুভূতি মানুষের ব্যয় ও আত্মবিশ্বাসে ধীরে ধীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও এর প্রভাব সরাসরি ও তাৎক্ষণিক নাও হতে পারে। একই সঙ্গে, নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ সোনার দাম ও আমদানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার এবং চলতি হিসাব ঘাটতির উপর প্রভাব ফেলে।




