Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে আবারও মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে শুরু করেছে, আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে আসছে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রানীতি বৈঠক। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে – এই সময়ে বন্ডে বিনিয়োগ করাই কী বুদ্ধিমানের কাজ নাকি কিছুটা সময় অপেক্ষা করাই ভালো? সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে মুদ্রাস্ফীতি আবার উর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে RBI- এর উপর চাপ তৈরি হয়েছে; সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা কিছুটা সময়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখার।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আর মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত তারা সুদের হার কমাতে তাড়াহুড়ো করবে না। ফলে সুদের হার আপাতত উচ্চ স্তরেই থাকতে পারে। তবে যদি আগামী মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমে যায়, তাহলে বছরের পরবর্তী সময়ে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ সুদের হার এবং বন্ডের সম্পর্ক রিলেটেড। সুদের হার যখন বেশি থাকে, তখন নতুন বন্ডে ভালো রিটার্ণ পাওয়া যায়।
তবে এখানে ঝুঁকির দিকটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ স্তরে থাকে, তাহলে RBI সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত রাখতে পারে। সে ক্ষেত্রে বন্ডের দাম খুব একটা বাড়বে না এবং বিনিয়োগকারীরা মূলত সুদের আয়ের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন। এই পরিস্থিতিতে বাজার বিশ্লেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে এগোনোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। একবারে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কমানো যায়। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে বিনিয়োগ ভাগ করে নিলে বাজারের ওঠানামার প্রভাবও কিছুটা সামলানো সম্ভব।




