Article By – সুনন্দা সেন

বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাত দীর্ঘ হলে তার প্রভাব ভারতের অর্থনীতির উপরেও পড়বে। ইতিমধ্যে ভারতসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশ, বিশেষ করে এশিয়ান দেশগুলি তেল ও গ্যাসের সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। এদিকে আবার জানা যাচ্ছে যে ভারত সরকার গত তিন বছরে বিদেশে অঘোষিত আয় ও সম্পদের ওপর থেকে প্রায় ৯,৫১৫ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকার কর সংগ্রহ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংগ্রহ হয়েছিল ৯৪৯.৫১ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪,৫৫৬.৬৪ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬ (চলতি) অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪,০০৯.৬৪ কোটি টাকা।
এই আয়কেন্দ্রিক তথ্যের মাধ্যমে দেখা যায় যে সম্প্রতি বছরগুলিতে বিদেশী সম্পদ থেকে কর সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। এছাড়া এই তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে বিদেশে থাকা অঘোষিত সম্পদ শনাক্ত করা হয়েছে। পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারস এবং প্যান্ডোরা পেপারস – এর তথ্যের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত ১,৩৬৮টি মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় ৪১,২৫৭ কোটি টাকার কর ও জরিমানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও ১৬৭টি মামলার জন্য অভিযোগ দামের করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে করদাতাদের সম্পদ বিষয় ঘোষণা বাড়ানো হয়েছে এবং সরকার আরও কার্যকরভাবে সেই সম্পদ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করছে।
নিজস্ব বিদেশী সম্পদ বা ফরেন অ্যাসেট ও আয় রিটার্ণ অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের NUDGE প্রচারণার মাধ্যমে তথ্য-ভিত্তিক বার্তা পাঠিয়ে করদাতাদের উৎসাহিত করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টায় মোট ১,৫৭,১১২ জন করদাতা সেলফ প্রোক্লেইম করেছেন, তার তাদের বিদেশী সম্পদ প্রায় ৯৯,৮৮২ কোটি টাকা এবং আয় প্রায় ৬,৫৪০ কোটি টাকা। আর এই কর সংগ্রহ করা হয়েছে ব্ল্যাক মানি (Undisclosed Foreign income and Assets) এবং Imposition of Tax Act, 2015-এর আওতায়। কারণ আইটি বিদেশে অঘোষিত আয় ও সম্পদের ওপর কর আরোপ, জরিমানা এবং প্রয়োজন হলে মামলা করার অনুমতি দেয়।




