Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি UPI বা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস। গত কয়েক বছর ধরে UPI লেনদেনের পরিমাণ এবং মূল্য দু-দিক থেকেই দ্রুত বেড়েছে। নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এ সেই বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, UPI বৃদ্ধির হার প্রায় ১০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আর এই পরিস্থিতির সঙ্গে নতুন করে সামনে এসেছে MDR (Merchant Discount Rate) নিয়ে বিতর্ক।
UPI-র মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দোকানে পেমেন্ট, অনলাইন কেনাকাটা, বিল মেটানো থেকে শুরু করে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন করছেন। তবে UPI ব্যবহারের দ্রুত বিস্তারের পর এবার বাজার কিছুটা পরিণত পর্যায়ে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধির হার স্বাভাবিকভাবেই ধীর হতে পারে। এর পাশাপাশি রয়েছে MDR-এর বিষয়টি। বর্তমানে বহু ছোট এবং সাধারণ UPI লেনদেনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি MDR নেওয়া হয় না। ফলে গ্রাহকদের জন্য UPI পেমেন্ট অত্যন্ত সুবিধাজনক এবং কম খরচের হলেও, এই ব্যবস্থার পিছনে থাকা পেমেন্ট সংস্থা ও অন্যান্য অংশীদারদের আয়ের মডেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
MDR চালু বা পরিবর্তন করা হলে UPI ইকোসিস্টেমের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ তৈরি হতে পারে, আবার পেমেন্ট সংস্থাগুলির জন্য আয়ের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে একইসঙ্গে আশঙ্কা রয়েছে, অতিরিক্ত চার্জ চালু হলে ছোট ব্যবসায়ী এবং গ্রাহকদের একটি অংশ UPI ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, UPI-র পরবর্তী পর্যায়ের বৃদ্ধি শুধু লেনদেনের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর নির্ভর করবে না। বরং নতুন ব্যবহারকারী, গ্রামীণ ও ছোট শহরে ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং নতুন ধরনের আর্থিক পরিষেবার সঙ্গে UPI সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বর্তমানে নজর থাকবে বৃদ্ধির গুণমান, পেমেন্ট সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক মডেল এবং MDR নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে। UPI ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হয়ে উঠেছে। তাই বৃদ্ধির গতি কমলেও সেটিকে শুধুমাত্র দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। বরং দ্রুত সম্প্রসারণের পর UPI এখন এমন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে টেকসই বৃদ্ধি, লাভজনকতা এবং সঠিক MDR কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।




