Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের সরকারি ব্যাংক বা পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলি এখন বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। এতদিন যেখানে তাদের মূল ফোকাস ছিল আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ, এখন সেখানে জোর দেওয়া হচ্ছে ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিষেবায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয়দের সঞ্চয়ের ধরনে বড় পরিবর্তনই এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ। আগে মানুষ মূলত ফিক্সড ডিপোজিট বা সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতেন। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে সেই প্রবণতা বদলাচ্ছে। ক্রমশই বাড়ছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড, শেয়ার বাজার, বিমা ও পেনশন প্রোডাক্টে বিনিয়োগ।
এই পরিবর্তনের ফলে সরকারি ব্যাংকগুলির সামনে একদিকে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সুযোগও এসেছে। ডিপোজিট বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে গেলেও, বিনিয়োগ-ভিত্তিক পরিষেবা থেকে ফি-আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে PSB-গুলি কয়েকটি বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। আর সেগুলি হলো –
- প্রথমত, তারা তাদের পরিষেবার পরিধি বাড়াচ্ছে। এখন অনেক সরকারি ব্যাঙ্কই গ্রাহকদের জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিমা, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত পরামর্শ দিচ্ছে।
- দ্বিতীয়ত, তারা নিজেদের বিশাল গ্রাহকভিত্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে। দেশের গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় সরকারি ব্যাংকগুলির উপস্থিতি রয়েছে। এই বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা গ্রাহকদের কাছে নতুন বিনিয়োগ পণ্য পৌঁছে দিতে চাইছে।
- তৃতীয়ত, ডিজিটাল পরিষেবায় বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য সহজে বিনিয়োগ করার সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম এবং প্রযুক্তি-সচেতন গ্রাহকদের আকর্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
এছাড়াও, সরকারি ব্যাংকগুলি এখন বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে উচ্চ আয়ের গ্রাহক এবং মধ্যবিত্ত বিনিয়োগকারীদের উপর, যাদের সাধারণত প্রাইভেট ব্যাংক বা বিদেশি সংস্থাগুলি টার্গেট করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু পরিষেবার সম্প্রসারণ নয়, বরং ব্যাংকগুলির আয়ের কাঠামো বদলে দিচ্ছে। কারণ ঋণ থেকে সুদের আয়ের তুলনায়, ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট থেকে পাওয়া ফি-ভিত্তিক আয় অনেক বেশি স্থিতিশীল ও লাভজনক হতে পারে।




