Article By – সুনন্দা সেন

আজ প্রকাশিত রইটার্সের সর্বশেষ অর্থনীতিবিদ জরিপে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) আগামী ৩–৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত দ্বিমাসিক নীতি বৈঠকে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.৫০% থেকে ৫.২৫% করতে পারে। জরিপটি পরিচালিত হয় ১৮ থেকে ২৬ নভেম্বরের মধ্যে, যেখানে অংশ নেন মোট ৮০ জন অর্থনীতিবিদ। তাদের মধ্যে ৬২ জন মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে RBI সুদের হার কমানোর পথেই হাঁটবে। এই প্রত্যাশার মূল ভিত্তি—ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি গত অক্টোবর মাসে নেমে এসেছে ঐতিহাসিক নিম্ন ০.২৫%-এ। এছাড়া খাদ্যদ্রব্যের দাম কমা, উৎপাদন সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং বিভিন্ন ভোক্তা পণ্যে করছাড়ের ফলে মুদ্রাস্ফীতি এই অস্বাভাবিক নিম্নস্তরে পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এমন কম মূল্যস্ফীতি আরবিআইকে স্পষ্টভাবে নীতি শিথিল করার সুযোগ দিচ্ছে। সাধারণত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায় এবং মুদ্রাস্ফীতি কমে গেলে তা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। সেই যুক্তিতেই আগামী বৈঠকে রেপো রেট কমার সম্ভাবনা বেশি। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাভরণ নয়। রুপির মান সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে নেমে পৌঁছেছে প্রায় ৮৯.৪৯ টাকায়। যা মার্কেটে আমদানি ব্যয় বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। তবুও রইটার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ বা অর্থনীতিবিদ মনে করেন, রুপির দুর্বলতা সত্ত্বেও চলতি পরিস্থিতিতে সুদের হার কমানোই হবে RBI- এর অগ্রাধিকার।
রেট কাট হলে তার প্রভাব পড়বে বাজার ও সাধারণ গ্রাহকের ওপর। গৃহঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ, MSME ঋণসহ নানা ক্ষেত্রে সুদের বোঝা কমতে পারে, ফলে বাড়বে চাহিদা, বিনিয়োগ ও ভোগ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে এটি ভারতের প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। বন্ড মার্কেটে ইতিমধ্যে ইয়িল্ড কমার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে, শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগকারীরা রেট কাটের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মত, ডিসেম্বরে একবার রেট কমার পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত সুদের হার স্থিতিশীলই থাকবে, যদি না মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। এখন নজর থাকবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে RBI কি সত্যিই রেট কমিয়ে নতুন চক্রের সূচনা করবে? নাকি রুপির দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে।




