Article By – সুনন্দা সেন

কেন্দ্রীয় বাজেট, ২০২৬ সামনে রেখে ফের আলোচনায় এসেছে সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ফিক্সড ডিপোজিট বা FD থেকে প্রাপ্ত সুদের উপর করছাড়ের বিষয়টি। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার মধ্যে সাধরণ সঞ্চয়কারীরা। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকরা করের চাপের কারণে কার্যত কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে আয়কর আইনের আওতায় সাধারণ করদাতারা সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের উপর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় পান। যা ধারা ৪০-TTA- এর অধীনে। তবে এই ছাড়ের আওথায় FD থেকে পাওয়া সুদে হ্রাস লক্ষ্য করা যায় না। অন্যদিকে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সেভিংস ও FD মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদের উপর করছাড় রয়েছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সীমা বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের ডিপোজিট রেট বেড়েছে, ফলে সুদের আয়ও বেড়েছে এবং তার সঙ্গে বেড়েছে করের বোঝা। বাস্তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ছাড়ের পরিমাণ বাড়েনি। যার ফলে প্রকৃত অর্থে সঞ্চয়কারীদের সুবিধা বা সুযোগ কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাজেট, ২০২৬-এ একাধিক দাবি উঠে এসেছে। কর বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাধারণ করদাতাদের জন্য সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের করছাড় ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০ হাজার টাকা করা উচিত। পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই ছাড় ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব নেওয়ার আলোচনাও চলছে।
এছাড়াও দাবি উঠেছে যে শুধু প্রবীণ নাগরিক নয়, তরুণ ও মধ্যবয়সি ঝুঁকিহীন সঞ্চয়কারীদের জন্যও FD সুদের উপর কিছু করছাড় দেওয়া হোক। কারণ যারা শেয়ারবাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে যেতে চান না, তাদের কাছে ব্যাংক ডিপোজিটই মূল ভরসা। কিন্তু করের চাপে এই নিরাপদ বিনিয়োগের প্রকৃত রিটার্ন অনেকটাই কমে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি বাজেট ২০২৬-এ এই করছাড়ের সীমা বাড়ানো হয়, তাহলে তা মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের হাতে অতিরিক্ত নগদ অর্থ এনে দেবে। এতে একদিকে যেমন সঞ্চয়কারীদের স্বস্তি মিলবে, অন্যদিকে ভোগব্যয় বাড়ার মাধ্যমে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন বাজেটে কেন্দ্র সরকার সাধারণ সঞ্চয়কারীদের এই দাবি কতটা গুরুত্ব দেয়। বাজেট ২০২৬ কি সত্যিই সেভিংস ও FD সুদের উপর করের বোঝা কিছুটা লাঘব করবে। আর সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় সঞ্চয়কারী।




