Article By – সুনন্দা সেন

মধ্যপ্রাচ্য (Middle East)-এ সংঘাত ক্রমশ তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটতে পারে। আর সেই আশঙ্কাতেই ব্রেন্ট ও WTI ক্রডের দামে একধাপ উত্থান, বা বলা চলে বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রডের দাম উর্ধ্বমুখী হয়েছে। একইভাবে আমেরিকার WTI ক্রডের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তেই বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্রড অয়েলের দামে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক। ফলে এই অঞ্চলে সাময়িক উত্তেজনা বাড়লে সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা সরাসরি দামের উপর প্রভাব ফেলে। সাথে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেই তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
বিশেষ করে যদি সংঘাত ইরান বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে হরমুজ প্রনালীর মাধ্যমে তেল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। যা বিশ্ব বাজারে বড় ধরনের আঘাত দিতে পারে। বিনিয়োগকারীরা তাই ঝুঁকি এড়াতে তেলের ফিউচার কন্ট্রাক্টে আগাম আমদানি -রপ্তানি বাড়াচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধুমাত্র সরবরাহ সংক্রান্ত চিন্তার ফলে নয়, বরং বাজারে ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তার সম্ভাবনা ধরেই দাম বাড়ছে এর পাশাপাশি ডলারের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক মুদ্রানীতি সম্পর্কিত প্রত্যাশাও তেলের দামের উপর প্রভাব ফেলছে।
ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় বাড়ে, যা বাণিজ্য ঘাটতি এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পরিবহন খরচ বাড়ার ফলে পণ্য ও পরিষেবার দামও বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে তেলের দাম স্থিতিশীল হতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে দাম দ্রুত বাড়লেও পরিস্থিতি শান্ত হলে কিছুটা সংশোধন হয়েছে।




