বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ‘Colliers’ সম্প্রতি একটি রিপোর্ট পেশ করেছে, যাতে বলা হচ্ছে এশিয়া প্যাসিফিক (APAC) মার্কেটে ২০২৪ সালে রিয়াল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট পৌঁছেছে ১৫৫.৯ বিলিয়ন ডলারে, যা গত একবছরের তুলনায় 12% বেশি। এখানে জানিয়ে রাখি ‘Colliers’ হল একটি বিশ্বব্যাপী প্রসিদ্ধ ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, যা মূলত রিয়াল এস্টেট, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট-সংক্রান্ত বিষয়ের দিকে নজর রাখে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই বৃদ্ধি, অস্ট্রেলিয়া, মেইনল্যান্ড চায়না, হংকং, ভারত, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং তাইওয়ান অর্থাৎ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের শীর্ষ ৯টি মার্কেটের দৃঢ়তাকে প্রমাণ করে।
Colliers-এর প্রকাশিত ‘Asia Pacific Investment Insights H2 2024’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০২৪ সালের দ্বিতীয় অর্ধে অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে মোট রিয়াল এস্টেট বিনিয়োগের 59%-এর ক্ষেত্রে একত্রে অবদান রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও মেইনল্যান্ড চায়নার। অন্যদিকে যদি ভারত, তাইওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলির কথা বলা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে এই দেশগুলিতে একবছরের তুলনায় 30% বৃদ্ধি দেখা গেছে বিনিয়োগে।
মোট রিয়াল এস্টেট মার্কেটের মধ্যে অফিস, ইন্ডাস্ট্রি এবং লজিস্টিকস ক্ষেত্রটি ২০২৪ সালের দ্বিতীয় অর্ধে মোট বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় 60% অবদান রাখে। অন্যদিকে খুচরো বা রিটেল এবং হসপিট্যালিটি ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বিনিয়োগ লক্ষ করা গেছে। এই সময়কালে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশে রিয়াল এস্টেটে রিটেল ইনভেস্টমেন্ট একবছর আগের তুলনায় বেড়েছে 31%।
এবার আসা যাক ভারতের কথায়। APAC অঞ্চলের মধ্যে ভারত ক্রমাগত শক্তিশালী গতি বজায় রেখেছে। ২০২৪ সালের দ্বিতীয় অর্ধে বিনিয়োগে 88% বার্ষিক বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে, অর্থাৎ গত ১ বছরের তুলনায় ভারতের রিয়াল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ইনফ্লো তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলারে। ভারতে রিয়াল এস্টেটে অফিস ক্ষেত্রটি সর্বাধিক বিনিয়োগের সাক্ষী থেকেছে, 47%। এরপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং লজিস্টিকস ক্ষেত্রে বিনিয়োগ দেখা গেছে 27%। ভারতীয় শহরগুলির মধ্যে রিয়াল এস্টেট অফিস অ্যাসেটে বিনিয়োগ ২০২৪ সালে দ্বিতীয় অর্ধে সর্বাধিক ছিল মুম্বাইতে।
Colliers India-র মুখ্য আধিকারিকের মতে ভারতের রিয়াল এস্টেট মার্কেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ক্যাপিটাল ইনফ্লো 22% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে। এবং তাঁর মতে এই ধরনের গতি ২০২৫ সালেও আশা করা যাচ্ছে, যা সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ মনোভাব বাড়াতে সাহায্য করবে। Colliers India-র মুখ্য আধিকারিক বাদল ইয়াগনিক আরও মনে করেন যে, রেপো রেটের হ্রাস-সহ মনিটারি পলিসি আরও শিথিল করা হলে আশা করা যায় লিক্যুইডিটি বাড়বে এবং ২০২৫ সালেও ভারতে রিয়াল এস্টেট ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন বৃদ্ধি পাবে।
অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে বলা যায়, এশিয়া প্যাসিফিক ক্ষেত্রেও রিয়াল এস্টেটে বিনিয়োগের মাত্রা সম্ভবত ২০২৫ সালেও দৃঢ় থাকবে।




