Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স বা AI নিয়ে যখন চাকরি আশঙ্কা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় আশাবাদের বার্তা দিলেন N.R Narayana Murthy (নারায়ণ মূর্তি)- র। তাঁর মতে, AI কর্মসংস্থান কমাবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এক সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মূর্তি বলেন, এই প্রথম নয় ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে প্রতিটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রথমে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত তা নতুন কাজের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করেছে।
শিল্পবিপ্লব থেকে শুরু করে কম্পিউটার যুগ, এমনকি ইন্টারনেটের বিস্তার – সব ক্ষেত্রেই প্রাথমিকভাবে চাকরি হারানোর আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সময়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত দিক থেকে নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি করেছে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিক খুলে দিয়েছে। মূর্তির বক্তব্য, AI তার ব্যতিক্রম হবে না। তাঁর মতে, AI মানুষের কাজ কেড়ে নেবে না, বরং কাজের ধরন বদলে দেবে। অনেক রুটিন ও রিপিটেটিভ কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে, কিন্তু সেই সঙ্গে তৈরি হবে নতুন পর্যায়। যেখানে অ্যানালিটিক্যাল ক্ষমতা, সমাধানের দক্ষতা এবং সৃজনশীল বা ক্রিয়েটিভ থিংকিংয়ের গুরুত্ব বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও IT পরিষেবা খাতে AI ইতিমধ্যেই প্রভাব ফেলছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে প্রোগ্রামারদের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে। বরং ভবিষ্যতে দক্ষ পেশাদারদের আরও স্পষ্টভাবে সমস্যা চিহ্নিত করা, কার্যকর সমাধান নির্ধারণ করা এবং সিস্টেম ডিজাইন করার মতো উচ্চস্তরের কাজে মনোযোগ দিতে হবে। ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মূর্তি বরাবরই প্রযুক্তির ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
তাঁর মতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে AI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে কোম্পানির খরচ কমবে, পরিষেবার মান বাড়বে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে—যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, পরিবর্তনের এই সময়ে পেশাজীবীদের নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। তাই ধারাবাহিক শেখা এবং আপস্কিলিং ভবিষ্যতের সাফল্যের চাবিকাঠি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ যেখানে AI-এর কারণে ব্যাপক চাকরি সংকোচনের আশঙ্কা করছেন। সেখানে নারায়ণ মূর্তির বক্তব্য, প্রযুক্তিকে ঘিরে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক নীতি, প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতি থাকলে এআই ভারতের মতো তরুণ জনসংখ্যার দেশে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।




