Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন রাজনৈতিক মহল থেকে চাপ বাড়লেও ভারতের কাছে অপরিশোধিত তেলের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবেই রয়ে গেছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক আমদানি পরিসংখ্যান বলছে, মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় অংশই এখনও রাশিয়া থেকে আসছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়ার ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর রাশিয়া এশিয়ার বড় বাজারগুলির দিকে অগ্রসর হয়ে পড়ে এবং ভারত ও চীনের মতো দেশকে ছাড়মূল্যে তেল সরবরাহ শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ছাড় পাওয়ায় ভারত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে ভারত-রাশিয়া এনার্জি বা জ্বালানি সম্পর্ক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন সীমিত করার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। যদিও নয়াদিল্লি বরাবরই স্পষ্ট করেছে, তাদের পর রাষ্ট্রনীতি ও জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। এমনিও ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ এবং মোট চাহিদার প্রায় ৮৫% আমদানি নির্ভর। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security) নিশ্চিত করা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কেনার ফলে আমদানি বিল কিছুটা কমেছে এবং তা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রেও সহায়ক হয়েছে।
তবে ভারত কেবল রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। ইরাক, সৌদি -আরব, UAE এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ নয়াদিল্লি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় রাখার কৌশল অনুসরণ করছে। কূটনৈতিকভাবে ভারত একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও জোরদার করছে। আর এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, শিপিং ও বীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং বৈশ্বিক তেলের দামের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানির মাত্রা।




