Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে, সরকারের নির্ধারিত প্রায় ৭৫,০০০ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা বাধা ও অনিশ্চয়তার কারণে ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক মার্কেটে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের মতো অপরিশোধিত তেল আমদানি নির্ভর দেশের ওপর। তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, যার ফলে দেশের বানিজ্য ঘাটতি বাড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়।
হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তায় তেল পরিবহনেও বাধা আসছে। ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের দাম বর্তমানে উর্ধ্বমুখী থাার সাথে ভবিষ্যতেও এই প্রবণতা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাজার বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণোন সংস্থাগুলির ওপর। সংস্তাগুলিকে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চ দামে তেল কিনতে হয়, অন্যদিকে দেশের বাজারে অনেক সময় নিয়ন্ত্রিত বা কম দামে বিক্রি করতে হয়। ফলে তাদের তেলের মার্জিন কমে যায়।
আর সরকার এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির লাভের একটি বড় অংশ ডিভিডেন্ড হিসেবে পায়। কিন্তু যদি সংস্থাগুলির লাভ কমে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সরকারের আয়ও কমে যাবে। এর ফলে ৭৫,০০০ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু তেল সংস্থাই নয়, অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির ওপরও চাপ পড়তে পারে। কারণ উচ্চ জ্বালানি খরচ শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি, সরকারের আর্থিক ঘাটতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। ডিভিডেন্ড থেকে প্রত্যাশিত আয় কমে গেলে সরকারকে হয় ব্যয় কমাতে হবে, নয়তো অতিরিক্ত ঋণ নিতে হতে পারে।




