Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকার রাজস্ব ঘাটতি বা ফিসকাল ডেফিসিট ৪.৮% GDP পর্যন্ত বাড়তে দিতে পারে। যা আগের নির্ধারিত প্রায় ৪.৩% GDP লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে এই সিদ্ধান্ত মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি বাজার (Fuel market)-এর অস্থিরতার কারণে নেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ভর্তুকি ব্যয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ভারতের বাজেটের ওপোর চাপ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা কুকিং গ্যাস ও সার ভর্তুকি (Fertilizer Subsidy) খাতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং রাজস্ব সংগ্রহে অনিশ্চয়তা সরকারের আর্থিক ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। অবশ্য এখনও এটি কোনো বড় সংকট নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক চাপ সামাল দিতে ভারতের অর্থনীতিতে একটি বাস্তবায়ভিত্তিক নমনীয়তার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘাটতি কিছুটা বাড়তে দেওয়া মানে সরকারের তরফে উন্নয়ন ব্যয় ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্ঠা। তবে এর ফলে বাজারে সরকারি ঋন গ্রহণ বাড়তে পারে। যা বন্ডের সুদের হার এবং সামগ্রিক আর্থিক বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অতিরিক্ত ব্যয় অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে প্রবাহিত হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করতে পারে। আবার সরকারের সামনে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা আরও কঠিন হতে পারে।




