Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবারও চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় রুপি মার্কিন ডলারের বিপরীতে পতনের কারণে নেমে ৯০-এর কাছাকাছি এসেছে, যা চলতি অর্থবছরের অন্যতম দুর্বল মান। পাশাপশি বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার, আমদানিতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার জেরে বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদেশি পুঁজি প্রবাহ বা বিদেশী বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের দাম এবং বৈশ্বিক সুদের হার, এই তিনটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাথে রিজার্ভ ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান দুর্বলতার পেছনে কয়েকটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সেগুলি হলো: প্রথমত, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় ইক্যুইটি বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন, যার ফলে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের প্রতি নির্ভরতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাবও রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এই মিলিত পরিস্থিতির ফলে রুপি নিজের মান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। আর এই সবের প্রভাব দেশীয় বাজারে এবং সাধারণ মানুষের উপর পড়ছে।
রুপির এই দুর্বলতা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে আমদানি-নির্ভর পণ্য ও পরিষেবার ওপর। আর সেগুলি হলো:
- তেল, ইলেকট্রনিক্স, কাঁচামাল সহ একাধিক পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
- বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের খরচও বেড়ে যাবে, কারণ ডলারে পেমেন্ট করতে আরও বেশি রুপি খরচ করতে হবে।
- উৎপাদন খরচ বাড়লে শিল্প-বাণিজ্যেও চাপ তৈরি হবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে।




