Article By – সুনন্দা সেন

চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্কে সাম্প্রতিক তথ্য একদিকে আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে চীনে ভারতের রপ্তানি দ্রুত হারে বেড়েছে, অন্যদিকে দুই দেশের মধ্যে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি পৌঁছেছে প্রায় ১০৬ বিলিয়ন ডলারে, যা ভারতের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সরকারি ও বাণিজ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে চীনে ভারতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে লোহা আকরিক, পেট্রোলিয়াম পণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য, রাসায়নিক দ্রব্য এবং কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের চাহিদা চীনের বাজারে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের যোগান সংকট এবং উৎপাদন খাতে চীনের বাড়তি প্রয়োজন ভারতের রপ্তানিকে বাড়তি গতি দিয়েছে। তবে এই ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি সমস্যার দিকটিও স্পষ্ট। ভারত এখনও বিপুল পরিমাণে চীন থেকে ইলেকট্রনিক্স পণ্য, মোবাইল ও টেলিকম যন্ত্রাংশ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, মেশিনারি এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করছে। এই উচ্চ আমদানির ফলেই ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি এত বড় আকার নিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ঘাটতি শুধু আর্থিক ভারসাম্যের প্রশ্ন নয়, বরং এটি শিল্প ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতার বিষয়ও।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, চীনে রপ্তানি বাড়া অবশ্যই ইতিবাচক সংকেত, কিন্তু আমদানির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো না গেলে এই অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। এই কারণেই কেন্দ্র সরকার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ বা PLI প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে। আর এখনো লক্ষ্য একটাই, চীননির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্য ঘাটতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা। সব মিলিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চিত্রে এখন দুই বিপরীত দিক স্পষ্ট।




