Article By – সুনন্দা সেন

রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের এক জরিপে দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের দাম আরও কমিয়ে আনার পর এপ্রিল মাসে ভারতীয় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রায় ছয় বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যা টানা তৃতীয় মাসের জন্য ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের ৪% মধ্যমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রার নীচে রয়েছে। গ্রীষ্মের এই পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে ফসলের উৎপাদনে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। যা ভারতীয় অনেক পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে তাদের জন্য যাদের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খাদ্যের জন্য বরাদ্দ করে। আরও জানা যাচ্ছে যে খাদ্যের মূল্য ভোক্তা মূল্য বা Consumer Price basket-এর প্রায় অর্ধেক।
৫-৮ মে রয়টার্সের ৪৩ জন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে যে, ভোক্তা মূল্য সূচক বা CPI-এর বার্ষিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিমাপ করা মুদ্রাস্ফীতি এপ্রিল মাসে ৩.২৭%-এ নেমে এসেছে। যা মার্চে ছিল ৩.৩৪%। মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের পূর্বাভাস ২.৮% থেকে ৪%-এর মধ্যে ছিল। সোমবার সরকারি ছুটির কারণে এপ্রিলের CPI তথ্য মঙ্গলবার (১৩মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রকাশ করা হবে। পাশাপশি জরিপের মধ্যমণিরা পরামর্শ দিয়েছেন যে গত মাসে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে দাম সবচেয়ে ধীর গতিতে বেড়েছে। এছাড়া IDFC ফার্স্ট ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ গৌরা সেনগুপ্ত বলেন, ” সামান্য হ্রাস দেখতে পাওয়া যাবে, কারণ মাসিক ভিত্তিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাচ্ছে। শাকসবজি, ডাল, শস্যের দাম সহ এমনকি ফলের দামও হ্রাস পেয়েছে।
গত মাসে পরিচালিত রয়টার্সের একটি পৃথক জরিপে বলা হয়েছে যে, RBI- এর পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতি অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতির গড় হার ৪% হবে। এদিকে, গত কয়েক মাস ধরে লক্ষ্য করা যায় যে, মুদ্রাস্ফীতির তীব্র মন্দার কারণে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উত্তেজনা থেকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল খুঁজতে থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য এপ্রিল মাসে সোনার বিকল্প হয়ে উঠেছে। আর সোনার দাম প্রায় ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই মুদ্রাস্ফীতি কম থাকার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। এই কারণে ধীরগতির অর্থনীতিকে সমর্থন করার জন্য RBI-এর কাছে সুদের হার কমানোর আরও সুযোগ রয়েছে।




