Article By – সুনন্দা সেন

১২ আগস্ট, ২০২৫ (আজ) প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারতের রিটেইল (খুচরা) মূল্যস্ফীতি আট বছরের সর্বনিম্ন ১.৫৫%- এ নেমে এসেছে। যা একমাসে আগে (জুন মাস) পর্যন্ত ২.১% ছিল। বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো রিটেইল মূল্যস্ফীতি ২%-এর নীচে এসেছে। এর আগে ২০১৭ সালের জুন মাসে রিটেইল মুদ্রাস্ফীতি সর্বনিম্ন স্তর স্পর্শ করেছিল, যারপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্তর। খুচরা মূল্যস্ফীতির এই মডারেশন ছয় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে পতনের কারণে ৪%-এর নীচে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া এপ্রিল, ২০২৫ থেকে গড় মূল্যস্ফীতি ৩%- এর নীচে রয়েছে।
খাদ্য মূল্যস্ফীতি টানা দ্বিতীয় মাসে নেতিবাচক অবস্থানে রয়ে গেছে। জুন মাসের ১১%- এর তুলনায় সূচকটি ১.৮% মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড করেছে। ডাল, শাক-সবজি, শস্য, ডিম, চিনি এবং পরিবহন খরচের দাম কমার কারণে মূলত এই পতন ঘটেছে। জুলাই মাসের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। জুলাই মাসে গ্রামীণ মুদ্রাস্ফীতি ১.১৮%-এ দাঁড়িয়েছে, যা জুন মাসে ছিল ১.৭২%। অন্যদিকে শহরে মুদ্রাস্ফীতি ২.০৬% থেকে কমে ২.০৫%- এ দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক তাদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৭% থেকে ৩.১% করেছে।
এখনও সামগ্রিক মুল্যস্ফীতি পতনের কারণ হিসাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে খাদ্য মুল্যস্ফীতির হার দ্রুত কমে যাওয়া। সবজির দাম ২০.৬৯% কমেছে। যেখানে গত বছরের জুন মাসে সবজির দাম ১৯% কমেছিল। অন্যদিকে ডালের দাম ১৩.৭৬% কমেছে। যা আগের মাসে ১২% কমেছিল। সিটি ব্যাংকের প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ সমীরণ চক্রবর্তী এই মাসের শুরুতে এক নোটে বলেদিলেন, খাদ্যপণ্যের দাম কমার ফলে ভারতীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু হয়েছে। চক্রবর্তী বলেন, কৃষি খরচের মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খাদ্যের দাম নেতিবাচক মুদ্রাস্ফীতির দিকে যাচ্ছে। কারণ এখন মাসিক ভিত্তিতে সবজি এবং ডালের দাম কমেছে। আগামীতে সবজির দাম বাড়লেও যদি ডালের দাম কমতে থাকে, তখনও একই পরিণতি হবে।




