Article By – সুনন্দা সেন

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের বিমা খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ছবি উঠে এসেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংস্থাগুলির মোট প্রিমিয়াম আয় বছরে ২১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নন-লাইফ বা জেনারেল ইন্স্যুরেন্স সংস্থাগুলির প্রিমিয়াম আয়ও প্রায় ১৫% বেড়েছে, যা বিমা শিল্পে বিনিয়োগ ও চাহিদা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বছরের শুরুতে নতুন পলিসি বিক্রি বেড়েছে, পাশাপাশি সেভিংস ও প্রোটেকশন ভিত্তিক বিমা পণ্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা ভেবে বহু মানুষ বিমার দিকে ঝুঁকছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রিমিয়াম আয়ের উপর। বিশেষ করে ব্যক্তিগত জীবন বিমা পলিসিতে নতুন গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে অনুভব করছেন গ্রাহকরা। ফলে জানুয়ারি মাসে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলির ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে, নন-লাইফ বা জেনারেল ইন্স্যুরেন্স সেগমেন্টেও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে। মোটর ইন্স্যুরেন্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং কর্পোরেট পলিসিতে ভালো চাহিদার কারণে এই খাতে ১৫% প্রিমিয়াম বৃদ্ধির ছবি দেখা গেছে। যানবাহনের বিক্রি বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য বিমার প্রতি সচেতনতা বাড়ার ফলে জেনারেল ইন্স্যুরেন্স সংস্থাগুলি লাভবান হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতের এই প্রবৃদ্ধি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক সংকেত।
বিমা কভারেজ বাড়লে সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা যেমন মজবুত হয়, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতাও আসে। একই সঙ্গে বিমা কোম্পানিগুলির আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় বাজারে তাদের বিনিয়োগ সক্ষমতাও বাড়বে। অর্থাৎ, জানুয়ারি মাসের পরিসংখ্যান বলছে ভারতের বিমা শিল্প আবারও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াচ্ছে।




