Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সালে ভারতের আর্থিক বাজারে বড় পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিদেশী বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা থাকলেও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শক্তভাবে বাজারকে সমর্থন করছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিমা সংস্থা, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা AIF এবং পেনশন তহবিল সহ সব মিলিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি চলতি বছরে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে ২০২৫ সালে ধারাবাহিকভাবে অর্থপ্রবাহ বেড়েছে। নিয়মিত SIP এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের বাড়তি অংশগ্রহণের ফলে ইক্যুইটি ও ডেট ফান্ডে শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে।
বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলি শেয়ার কেনা চালিয়ে গেছে, যা সূচকের বড় পতন ঠেকাতে সাহায্য করেছে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের মত। এছাড়া বিমা সংস্থা এবং পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ কৌশলেও বড় বদল এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্নের লক্ষ্য নিয়ে তারা ইক্যুইটিতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা SIP-এর অধীনে তহবিল ব্যবস্থাপকেরা শেয়ারবাজারে সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনে ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ায় এই প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।
অন্যদিকে, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে বা AIF-এও দেশীয় মূলধনের প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাইভেট ইক্যুইটি, অবকাঠামো ও রিয়েল এস্টেটের মতো খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে পেনশন ও বিমা তহবিলের AIF-এ অংশগ্রহণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে ভারতীয় শেয়ারবাজারে এক স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যেখানে আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা ছিল মুখ্য, সেখানে এখন দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই বাজারের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। বিদেশি তহবিলের ওঠানামার প্রভাব কমিয়ে বাজারকে স্থিতিশীল রাখছে দেশীয় বিনিয়োগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।




