Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সাল ভারত– মার্কিন যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের আলোচনা ও দরকষাকষির পর দুই দেশ একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement – FTA) সম্পন্ন করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। শুল্ক হ্রাস, বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানোর ফলে ব্যবসা করা আরও সহজ হবে।
বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির জন্য নতুন বাজারের দরজা খুলে যেতে পারে। ভারতের জন্য এই চুক্তি বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে। বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, রত্ন ও গয়না, কৃষিপণ্য এবং আইটি ও ডিজিটাল পরিষেবা খাতে রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় পরিষেবা সংস্থাগুলির জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে কাজ করা আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য লাভবান হবে স্কচ হুইস্কি, অটোমোবাইল, আর্থিক পরিষেবা, শিক্ষা ও উচ্চমূল্যের উৎপাদন শিল্পে। বিশেষ করে স্কচ হুইস্কির উপর শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো ব্রিটিশ রপ্তানিকারকদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কেবল পণ্য বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে বিনিয়োগ বাড়ানো, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী সংস্থার সহযোগিতা, দক্ষ পেশাজীবীদের চলাচল সহজ করা এবং পরিষেবা খাতে অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। কৌশলগত দিক থেকেও এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক। ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য নতুন বাণিজ্য অংশীদার খুঁজছে, আর ভারতের জন্য এটি ইউরোপমুখী বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, এই FTA ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্য কৌশলকে আরও মজবুত করবে।




