Article By – সুনন্দা সেন

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে টানা চাপের পর ভারতীয় রুপি আবার শক্তি ফিরে পাচ্ছে। ডলারের বিপরীতে রুপির এই ঘুরে দাঁড়ানোর পিছনে একাধিক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, RBI-র সক্রিয় ভূমিকা এবং বৈশ্বিক বাজারের অনুকূল পরিস্থিতি মিলেই রুপির প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। জেনে নেওয়া যাক, রুপির সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধারের পেছনের পাঁচটি প্রধান কারণ। আর সেগুলি হলো,
- প্রথমত, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) হস্তক্ষেপ। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে RBI প্রয়োজনে ডলার বিক্রি করেছে এবং লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট জোরদার করেছে। এর ফলে বাজারে স্পষ্ট বার্তা গেছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুপির অতিরিক্ত দুর্বলতা বরদাস্ত করবে না, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
- দ্বিতীয়ত, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার প্রত্যাশা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের কারণে ডলার সূচক নরম হয়েছে। ডলার দুর্বল হলে স্বাভাবিকভাবেই উদীয়মান বাজারের মুদ্রা, বিশেষ করে রুপি, কিছুটা শক্তিশালী হয়।
- তৃতীয়ত, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) ফের বিনিয়োগ। ভারতীয় শেয়ার ও বন্ড বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। শক্তিশালী কর্পোরেট আয়, স্থিতিশীল অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় সুদের হারের কারণে বিদেশি তহবিল আবার ভারতের দিকে ঝুঁকছে, যা রুপির চাহিদা বাড়াচ্ছে।
- চতুর্থত, কাঁচা তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়া। ভারত বড় তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে রুপির ওপর চাপ পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামে বড় উল্লম্ফন না হওয়ায় আমদানি ব্যয়ের চাপ কমেছে এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
- পঞ্চমত, ভারতের শক্তিশালী ম্যাক্রো অর্থনৈতিক ভিত্তি। নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি, পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার এবং তুলনামূলকভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি রুপির পক্ষে সহায়ক হয়েছে। এই মৌলিক শক্তি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের ভারতের মুদ্রার ওপর আস্থা রাখতে সাহায্য করছে।
অর্থাৎ, RBI-র সক্রিয় নীতি, ডলারের পতন এবং অনুকূল বৈশ্বিক ইঙ্গিত রুপিকে সাম্প্রতিক চাপ থেকে বের করে আনতে সাহায্য করেছে। যদিও ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর রুপির গতি নির্ভর করবে, তবু আপাতত এই পুনরুদ্ধার বাজারে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।




