Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের চাল রপ্তানিকারকরা সরকারের কাছে কর ছাড়, স্বল্পসুদের ঋণ এবং পরিবহন ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ, লজিস্টিক ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে চাল রপ্তানির ব্যবসা ক্রমে চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজেট থেকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা না পেলে রপ্তানি খাতও চাপের মুখে পড়তে পারে। রপ্তানিকারকদের অন্যতম দাবি হলো রপ্তানি ঋণের উপর সুদের হার কমাতে ইন্টারেস্ট সাবসিডি চালু করা।
তাদের বক্তব্য কম সুদে ঋণ পেলে বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকরা নগদ প্রবাহ সামলাতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে চাল রপ্তানি করা সহজ হবে। এছাড়া পরিবহণ বা ফ্রেইট খরচ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রপ্তানিকারকরা। উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বন্দর পর্যন্ত চাল পরিবহণে রেল ও সড়কপথে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারা ফ্রেইট খরচে একটি অংশ সরকারিভাবে ফেরত দেওয়ার দাবি তুলেছেন, যাতে রপ্তানির মোট খরচ কিছুটা হলেও কমানো যায়।
কর সংক্রান্ত বিষয়েও রপ্তানিকারকদের অভিযোগ রয়েছে। পূর্বে আরোপিত কিছু রপ্তানি শুল্ক ও করের কারণে বহু সংস্থা আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়েছে বলে দাবি। তাই তারা এককালীন কর-ছাড় ও দ্রুত ট্যাক্স রিফান্ড ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত পরোক্ষ কর দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও সহজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চাল রপ্তানিকারক দেশ। এই খাতের সঙ্গে লক্ষ লক্ষ কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমিকের জীবিকা জড়িত।
বাজেটে যদি যথাযথ সহায়তা দেওয়া হয়; তাহলে শুধু রপ্তানি বাড়বে না, কৃষকদের আয়ও স্থিতিশীল থাকবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ আরও মজবুত হবে। আর রপ্তানিকারীরা বলছে যে এই বাজেট-সহায়তা তাদের উচ্চ খরচ, পরিবেশগত চাপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মোকাবেলায় সহায়তা করবে এবং ভারতকে চাল রপ্তানিতে প্রধান থাকার জন্য সক্ষম করবে।




