Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে বাজারের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ভারতে বিদেশী বড় বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তেও। সোভেরন ওয়েলথ ফান্ড (সার্বভৌম সম্পদ তহবিল) এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ভারতের প্রতি বিনিয়োগের গতি এই বছর স্পষ্ঠভাবেই ধীর হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক বাজারের ওঠানামাই এর প্রধান কারণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বড় বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলেছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সোভেরন ফান্ড এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময় নিচ্ছে।
আগে যেখানে ভারতকে দ্রুত বর্ধনশীল ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে তারা ঝুঁকি মাপতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং বন্ড ইয়িন্ডের ওঠানামার কারণে অনেক তহবিল তাদের পোর্টফোলিও পুনর্গঠনে ব্যস্ত। এর প্রভাব হিসেবে ভারতের ইক্যুইটি ও বন্ড মার্কেটে নতুন বড় বিনিয়োগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমেছে। যার ফলে বিশেষ করে অবকাঠামো, রিয়েল এস্টেট এবং বড় কর্পোরেট চুক্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। তবে এটাও উল্লেখযোগ্য যে বিনিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। সাথে অনেক সেভোরন ফান্ড এখনও ভারতকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবেই দেখেছে।
বিশ্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তারা এখন বেশি নিরাপদ ও লিক্যুইড অ্যাসেটের দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে উদীয়মান বাজারগুলিতে বিনিয়োগের পরিমাণ সাময়িকভাবে চাপের মুখে পড়েছে। যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল হলে এবং সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমলে ফের বিনিয়োগের গতি বাড়তে পারে। ভারতের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সংস্কারমূলক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষনীয়।




