Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে পাইকারি মূল্যস্ফীতি বা WPI এপ্রিল মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩%- এ। যা গত ৪২ মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ স্তর। মার্চ মাসে যেখানে এই হার ছিল ৩.৮৮%, সেখানে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এত বড় উল্লম্ফন অর্থনীতিবিদদেরও চিন্তায় ফেলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ জ্বালানি, ক্রুড অয়েল এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় ভারতের আমদানি খরচও বেড়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভারতের পাইকারি বাজারে। এপ্রিল মাসে ‘ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার’ বিভাগে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৪.৭%। পাশাপাশি পরিবহণ খরচ, উৎপাদন ব্যয় এবং শিল্পক্ষেত্রের ইনপুট কস্টও বেড়েছে। এর ফলে FMCG, অটোমোবাইল, নির্মাণ এবং লজিস্টিক্স সেক্টরে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, পাইকারি মূল্যস্ফীতির এই বৃদ্ধি আগামী কয়েক মাসে খুচরো বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পরিবহণ ও অন্যান্য পরিষেবার খরচ আরও বাড়তে পারে। এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে RBI বা Reserve Bank of India সুদের হার কমানোর বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। ফলে ঋণের EMI বা ব্যবসায়িক ঋণের খরচও দীর্ঘ সময় উচ্চ স্তরে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ভারতের আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।




