Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে ধীরে ধীরে বদল আসছে। মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে সরে এসে এখন ২২টি দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে ভারতীয় রুপি ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এই প্রবণতা শুধু আর্থিক নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রধান কারণ হলো ভারতের শক্তিশালী ও দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতি। ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে একটি। বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা এবং দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিদেশি দেশগুলিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে উৎসাহিত করছে। ফলে রুপিতে লেনদেন তাদের কাছে আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে।
দ্বিতীয় বড় কারণ, ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ডলারের অস্থিরতা, সুদের হার বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞাজনিত ঝুঁকির কারণে অনেক দেশ বিকল্প মুদ্রার সন্ধান করছে। রুপিতে বাণিজ্য করলে বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি কিছুটা কমে এবং লেনদেন খরচও হ্রাস পায়। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI)। RBI ‘স্পেশাল রুপি ভোস্ত্রো অ্যাকাউন্ট’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বিদেশি ব্যাংকগুলি সহজে রুপিতে বাণিজ্য নিষ্পত্তি করতে পারছে। এই ব্যবস্থাই রুপির আন্তর্জাতিক ব্যবহারে নতুন গতি এনেছে।
আরও একটি কারণ হলো ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা। কিছু দেশ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেমে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। তাদের জন্য রুপিতে বাণিজ্য একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠেছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালু রাখা যায়। এছাড়া, ভারত যেহেতু তেল, সার, কয়লা, ওষুধ ও খাদ্যশস্যের বড় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক, তাই এই পণ্যের লেনদেনে রুপির ব্যবহার বাড়ছে। শক্তি ও পণ্যমূল্য বাণিজ্যে রুপির গ্রহণযোগ্যতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপি এখনই ডলারের বিকল্প হয়ে উঠছে না, তবে বিশ্ব বাণিজ্যে বহুমুদ্রাভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এটি দেখা হচ্ছে। ভারতের ক্ষেত্রে এটি আর্থিক প্রভাব ও কূটনৈতিক শক্তি বাড়াবে, আর অংশীদার দেশগুলির জন্য দেবে আরও নমনীয়তা।




