Term insurance কী? কোন সময় টার্ম ইনসিওরেন্স করানো উচিত? টার্ম ইনসিওরেন্সের মেয়াদ ৭০ বা ৭৫ বছর বয়স অবধি বাড়ানো কি যুক্তিযুক্ত? জানব আজকের আলোচনায়।
Term insurance কী?
টার্ম ইনসিওরেন্স হল একপ্রকার জীবনবিমা যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। যদি বিমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যু হয় তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর আর্থিক সুযোগ-সুবিধাগুলি তাঁর বেনিফিশিয়ারি পাবেন। এটিকে একটি এগ্রিমেন্ট বা চুক্তি হিসেবে ধরা যায় যা ইনসিওরার অর্থাৎ বিমাকৃত ব্যক্তি এবং বিমা কোম্পানির মধ্যে হয়ে থাকে। এই চুক্তি বা এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী পলিসিহোল্ডারের অসময়ে মৃত্যু হলে বিমা কোম্পানি থেকে নির্দিষ্ট একটি টাকার অঙ্ক বিমাকৃত ব্যক্তির পরিবারকে দেওয়া হবে। চিরাচরিত জীবন বিমাতে যেখানে investment বা savings কম্পোনেন্ট যুক্ত থাকে, সেখানে টার্ম ইনসিওরেন্সে কেবলমাত্র লাইফ কভার থাকে।
তবে কত বছর বয়স অবধি টার্ম ইনসিওরেন্স পলিসি চালিয়ে যাওয়া উচিত? আপনার অবসরের অনেক পরে অর্থাৎ ৭০ বা ৭৫ বছর বয়স অবধি টার্ম ইনসিওরেন্সের মেয়াদ থাকা কি প্রয়োজন?
আদর্শগতভাবে একজন ৫০ বা ৫৫ বছর বয়সি ব্যক্তি যিনি নিজের আর্থিক লক্ষ্য সম্পর্কে বেশ সচেতন, তিনি নিজের অবসর লক্ষ্য ইতিমধ্যেই পূরণ করে ফেলেছেন অথবা আর্থিক দিক থেকে তিনি স্বাধীন। তবে সবসময় এমন ঘটনা না-ও দেখা যেতে পারে। কোনো ব্যক্তি গৃহঋণ নিতে পারেন, যার জন্য তাঁকে সম্ভবত আগামী ১০-১৫ বছর EMI দিতে হবে।
আবার এমন অনেক ব্যক্তিই আছেন যিনি নিজের স্ত্রী বা স্বামীর জন্য অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা বজায় রাখতে টার্ম ইনসিওরেন্সের lumpsum ক্লেমের সুবিধা নিতে চান। সুতরাং টার্ম ইনসিওরেন্সের মেয়াদ কত বছর অবধি রাখা উচিত তার জন্য বুঝতে হবে আপনার পরিবারের কত বছর অবধি আপনার অর্থের অবলম্বন প্রয়োজন। দেখতে হবে আপনার সন্তানদের বয়স কত এবং কত বছর অবধি আপনার সন্তান বা আপনার স্ত্রী / স্বামীর আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
টার্ম ইনসিওরেন্সের মূল লক্ষ্য হল কর্মরত অবস্থায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে আয়ের পথে যে বাধা পড়ে তার ক্ষতিপূরণ। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির earning capacity কভার করাই টার্ম ইনসিওরেন্সের কাজ। তবে অনেক ইনসিওরেন্স কোম্পানিই দীর্ঘমেয়াদের টার্ম পলিসি অফার করে থাকে, যার মেয়াদ ৬০/৭০ বছর অবধি চলে যায়। কিন্তু তার প্রয়োজন বিশেষ নেই।
কারণ যে টার্ম পলিসিগুলি দেরিতে শুরু করা হয় বা যেগুলি লং টার্মের হয়ে থাকে, সেগুলির জন্য প্রিমিয়ামের অর্থ বেশি গুনতে হয়। যদি ধরেও নেওয়া হয় কোনো কোনো ব্যক্তি ৬০ বছরের পরেও উপার্জন করতে থাকেন অর্থাৎ কর্মরত থাকেন, তাহলেও সর্বাধিক সময় মেয়াদ হওয়া উচিত ৬৫ বছর বয়স অবধি। অতিরিক্ত প্রিমিয়ামে অর্থ ব্যয়ের থেকে সেই অর্থ বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
টার্ম ইনসিওরেন্স কোন বয়সে করা উচিত?
নিয়মমাফিক বয়স অল্প থাকতে থাকতে টার্ম ইনসিওরেন্স কেনা উচিত এবং দেখা উচিত আপনি যেন অবসরের বয়স অবধি কভারেজ পান। জীবন বিমার প্রিমিয়ামের অঙ্ক বয়স এবং স্বাস্থ্যের উপর সরাসরি নির্ভরশীল। সেই কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিমিয়ামের অঙ্ক বাড়তে থাকে। মানুষের বয়স বাড়তে থাকলে অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ায়।
Policybazaar-এর একটি তথ্য অনুযায়ী ৪৫ বছরের এক ব্যক্তি যদি ২ কোটির টার্ম ইনসিওরেন্স করতে ৫ বছর দেরি করেন অর্থাৎ ৪৫ বছরে না করে ৫০ বছরে করেন তাহলে প্রিমিয়ামের টাকা 40% বেড়ে যায়। এছাড়াও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশনের মতো ক্রনিক অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী রোগ দেখা দিলে মূল প্রিমিয়ামের উপর অতিরিক্ত percentage হিসেবে প্রিমিয়াম লোডিং চার্জ করা হয়। তার কারণ হল যে ব্যক্তিদের এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে তাঁদের জীবন বেশ সংকটময়, এটা ধরে নিয়ে প্রিমিয়ামের উপর অতিরিক্ত টাকা চার্জ করা হয়।
কেন কম বয়সে টার্ম ইনসিওরেন্স করবেন?
নিজে আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার পরপরই যদি টার্ম ইনসিওরেন্স কেনা যায় তাহলে পলিসি কেনার সুবিধাও অনেক বেশি থাকে কারণ সেইসময় দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ বা অন্য কোনো অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। তাছাড়াও স্বাস্থ্যবিমার মতো জীবনবিমার পলিসি কেনার পর প্রিমিয়াম বাড়তে থাকে না, একই থাকে। ফলে যে বয়সে আপনি বিমা কিনছেন সেই বয়সে যে প্রিমিয়াম দিতে হবে সেটি সারা জীবনের জন্য একই থাকবে।
বয়ষ্ক কোনো ব্যক্তি, যাঁর জীবনবিমা করা নেই, প্রথমেই তাঁকে দেখতে হবে তিনি কর্মরত অবস্থায় কতটা অর্থ ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে জমাতে পেরেছেন। যদি মনে হয় আর্থিক দায়গুলি ঠিকমতো মেটানো সম্ভব নয় এই অর্থে তখন তাঁদের টার্ম ইনসিওরেন্সের কথা ভাবা উচিত। অর্থাৎ যদি আপনার আয়ের উপর আপনার পরিবার আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকে এবং আপনার অবর্তমানে আর্থিক দায়গুলি মেটানো তাঁদের পক্ষে সম্বব না হয়, তাহলে অবশ্যই term insurance কেনা উচিত, তা সেটা কম বয়সেই হোক আর বেশি বয়সেই। তবে যদি বেশি বয়সে কেনা হয় তাহলে বেসিক প্রিমিয়ামের পাশাপাশি প্রিমিয়াম লোডিং-ও দিতে হতে পারে existing disease-এর জন্য।
পরিশেষে বলা যায়, হেলদি অর্থাৎ স্বাস্থ্যবান থাকা এবং কম বয়স থাকাকালীনই টার্ম ইনসিওরেন্স কেনা একান্ত দরকারি। এবং অবশ্যই মনে রাখবেন জীবনবিমা কেনার সময় শুধুমাত্র টার্ম পলিসিই কিনবেন কোনোরকম endowment plan বা unit-linked policy কিনবেন না, যেগুলির সঙ্গে investment-এর বিষয় যুক্ত থাকে এবং প্রিমিয়ামের অঙ্কও অনেক বেশি হয়।





