Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক আবারও নতুন মাত্রায় পৌঁছালো।দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা সম্প্রতি আরও সক্রিয় হয়েছে। যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় দেশই (মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র -ভারত) স্বীকার করেছে যে তারা পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজারে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া জরুরি। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা, উভয় ক্ষেত্রেই দুই দেশের স্বার্থ এক হওয়ায় আলোচনা ফলপ্রসূত হয়েছে।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গত এক দশকে দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তবে এখনও বেশ কিছু শুল্ক–জটিলতা, বাজারে প্রবেশের বাধা এবং কৃষিজ পণ্য আমদানি–রপ্তানি নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। নতুন বৈঠকে দুই দেশই এ সমস্যাগুলি সমাধানে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় যেতে রাজি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। দ্বিতীয়ত, সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং দুই দেশের আলোচনার কেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারতকে বৈশ্বিক চিপ-সাপ্লাই চেইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি মার্কিন টেক কোম্পানি ভারতে বড় মাত্রায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতের লক্ষ্য—দেশে উচ্চমানের চিপ উৎপাদন এবং ইলেকট্রনিকস প্রস্তুত খাতে স্বনির্ভরতা বাড়ানো।
এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কো-প্রোডাকশন নিয়ে খুবই ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আমেরিকা ভারতে ইঞ্জিন প্রযুক্তি স্থানান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নতুন করে সক্রিয় করেছে। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা উন্নয়নে গতি আসবে এবং আমেরিকার জন্যও এটি হবে এশিয়াতে একটি বড় কৌশলগত বিনিয়োগ। ডিজিটাল বাণিজ্যেও উঠে এসেছে নতুন দিক। ডেটা সিকিউরিটি, ক্রস–বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ফিনটেক সহযোগিতায় দুই দেশ সম্মত হয়েছে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে। ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডগুলির অংশীদারিও বাড়তে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান ভূ–রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের অগ্রগতি শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বৈঠকগুলিতে আরও কিছু বড় ঘোষণা আসতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল।




