Article By – আস্তিক ঘোষ

গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান রয়েছে আমেরিকার। এদিকে গত তিন দশকে দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে চিন। আজ বিশ্বের কারখানায় পরিণত হয়েছে ড্রাগনের দেশ। একসময় এই মর্যাদা পেয়েছিল আমেরিকা। বিশ্বব্যাঙ্কের মতে, আজ বিশ্ব রপ্তানিতে চিনের অংশ 11.8 শতাংশ। অন্যদিকে, আমেরিকার অংশ কমে হয়েছে 9.5 শতাংশ।
1970 সালে, বিশ্ব রপ্তানিতে চিনের অংশ ছিল মাত্র 0.6 শতাংশ, অন্যদিকে আমেরিকার অংশ ছিল 15.6 শতাংশ। কিন্তু আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গিয়েছে। বিশেষ করে 1995 সাল থেকে চিন যে গতি অর্জন করেছে, তার কোনও তুলনা নেই। 1990-এর দশকের শেষের দিকে এবং 2000-এর দশকের শুরুতে চিন থেকে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে ব্যাপক হারে উৎপাদন শুরু করে চিন। অবশেষে বিশ্বের কারখানার খেতাব ছিনিয়ে নেয় আমেরিকার কাছ থেকে।
বর্তমানে, চিন থেকে আসা সস্তা পণ্যে ভরে গিয়েছে সারা বিশ্বের বাজার। এই কারণে অনেক দেশে ধ্বংসের মুখে যেতে বসেছে দেশীয় কোম্পানিগুলি। আবার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের দাবি উঠেছে চিনা পণ্যের ওপর। ভারতের চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি চিনের রপ্তানি। 2023 সালে মোট 432.34 বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছে ভারত। সেই জায়গায় চিনের রপ্তানি ছিল 3,380.02 বিলিয়ন ডলার।
বর্তমানে, রপ্তানির দিক থেকে চিনের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আমেরিকা। গত বছর সারা বিশ্বের বাজারে মোট 2019.54 বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে আমেরিকা। এভাবে চিন ও আমেরিকার রপ্তানির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে প্রায় 1,300 বিলিয়ন ডলারের। রপ্তানির দিক থেকে চিন ও আমেরিকার পরেই রয়েছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, জাপান, ইতালি ও ফ্রান্স। এই তালিকায় ভারত রয়েছে 17 নম্বরে। ভারতের চেয়ে রপ্তানিতে এগিয়ে রয়েছে অনেক ছোট দেশ। রপ্তানি খাতে পরাশক্তি হতে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে ভারতকে।




