Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মোদীকে এক ‘গ্রেট ফ্রেন্ড’ হিসেবে অবিহিত করেছেন। পাশাপাশি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভারত তার প্রশাসনের কঠোর বানিজ্য নীতি থেকে মুক্ত থাকবে না। প্রতিরক্ষা, এনার্জি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনার জন্য দুই দেশের লিডার একত্রিত হয়েছেন। ট্রাম্প ভারতের সাথে কিছু চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। যদিও তিনি শুল্ক এবং বাজার অ্যাক্সেস নিয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন। মোদি ট্রাম্পকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য অভিনন্দ জানান এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনের শুরুতে ঘোষিত ট্রাম্পের নতুন পারস্পরিক শুল্ক নীতি বৈধকের উপর আভাস পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৪৫.৬ বিলিয়ন ডলার। যা ওয়াশিংটন বর্ধিত আমেরিকান রপ্তানির মাধ্যমে সংকুচিত করতে চাইছে। আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ভারতের উপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক রয়েছে, যা ভারতীয় বাজারে US-এর প্রবেশাধিকার সীমিত করে। নতুন পারস্পরিক শুল্ক নীতি ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যাতে তারা আমেরিকান পণ্যের জন্য তার বাজার আরও উন্মুক্ত করে। একজন জেষ্ঠ মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় বাজারে ন্যায্য প্রবেশাধিকার চায় এবং US যে ট্রিটমেন্ট বা আচরণ করে একই আচরণ আশা করে।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা বা ডিফেন্স সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে, ট্রাম্প যুদ্ধ বিমানসহ আরও আমেরিকান সামরিক সরঞ্জাম অর্জনে ভারতের আগ্রহ নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে উন্নত স্টিলথ ফাইটার, F-35 ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অধিগ্রহণ হিসাবে আলোচনা করা হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চূড়ান্তভাবে F-35 স্টিলথ ফাইটার সরবরাহের পথও প্রশস্ত করছে। আমেরিকা থেকে ভারতের বর্ধিত জ্বালানি ক্রয়ও আলোচনার একটি মূল বিষয় ছিল। ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে তেল ও গ্যাসের পরিমাণ বেশি এবং তাদের এটির প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা আমেরিকান রপ্তানিকারকদের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করে।




