Article By – সুনন্দা সেন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার ফলে বৈশ্বিক গোল্ড মার্কেটে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সোনার গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব দুবাই (Dubai)-এ আটকে পড়া বিপুল পরিমাণ সোনা এখন ছাড়ের সাথে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার ফলে বিমান চলাচল ব্যপকভাবে ব্যহত হয়েছে। দুবাই থেকে এবং দুবাইয়ে যাওয়া অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সোনার চালান পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুবাই বিশ্বের অন্যতম বুলিয়ন ট্রানজিট কেন্দ্র। আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে সোনার বড় অংশ এই শহরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। অনুমান করা হয়, বিশ্বব্যাপী সোনার প্রায় ২০% লেনদেন দুবাইয়ের মাধ্যমে হয়। তাই পরিবহন ব্যহত হলে তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও। বর্তমানে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বহু সোনার চালার দুবাইতে আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু ট্রেডার তাদের আটকে থাকা সোনা দ্রুত নগদে রউপান্তর করতে ডিসকাউন্টের সাথে বিক্রি করছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে সোনা আটকে থাকলে পরিবহন খরচ, পলিসি এবং বাজারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো এশিয়ার বাজার, বিশেষ করে ভারত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গোল্ড কনজিউমার দেশ ভারত তার অনেক সোনাই দুবাইয়ের মাধ্যমে আমদানি করে। ফলে এই সরবরাহ ব্যহত হলে ভারতের বাজারেও সোনার দাম ও প্রাপ্যতা প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতি বাজার বাড়ার কারণে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ওঠানামা শুরু হয়েছে একদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যহত হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাও দীর্ঘ সময়ের জন্য চাপের মুখে পড়তে পারে। তাঁরা আরও জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বা সংঘর্ষ এখন শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নয়—এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও মূল্যবান ধাতুর বাজারেও।




