Article By – সুনন্দা সেন

ভারত-চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক ২০২৫ সালে নতুন মোড় নিয়েছে। ভারতের চীনে রপ্তানি কয়েক বছর ধরে যে স্তরে স্থির ছিল, তা এবার বাড়তে শুরু করেছে এবং ২০২৪ সালে ভারত-চীনে পণ্য রপ্তানি করেছে প্রায় ১৯.৭৫ বিলিয়ন ডলারের। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯.৭% বৃদ্ধির নির্দেশ করে। যদিও সামগ্রিক পরিমাণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম। আর সামান্য হলেও এই বৃদ্ধিতে দেখা যাচ্ছে যে ভারত কিছু নির্বাচন করা পণ্যের জন্য কঠিন চীনা বাজারে কার্যকর ভাবে প্রবেশ করতে পেরেছে। বিশেষ করে অয়েল মিলের পণ্য, সামুদ্রিক খাবার, টেলিকম যন্ত্রাংশ এবং মসলার মতো পণ্যগুলি কিছু জায়গায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কিন্তু এই উন্নয়নকে সাহায্য না করে, ভারত-চীনের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৫ সালে রেকর্ড ১১৬.১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে, যা আগের বছরের প্রায় ৯৯.২১ বিলিয়ন ডলারের থেকেও অনেক বেশি এবং এই ঘাটতি ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চাপ হিসেবে রয়ে গেছে ও। এর কারণ হলো চীনের কাছ থেকে ভারতের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০২৫ সালে চীনের পণ্যগুলোর রপ্তানি ভারতে প্রায় ১৩৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে এই ঘাটতি আরও বড় হয়েছে । এই কারণে দুই দেশের মোট বাণিজ্যও ২০২৫ সালে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং প্রায় ১৫৫.৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা প্রতিফলিত করছে যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলেও তা ভারসাম্যহীন ছিলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও রপ্তানি বৃদ্ধির এই চিহ্ন ইতিবাচক, তবু বাণিজ্য ঘাটতির এই মাত্রা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং ভারতে তথ্য প্রযুক্তি, ফার্মা এবং কৃষি পণ্যের মতো ক্ষেত্রগুলোতে চীনের বাজারে প্রবেশ আরও বাড়ানো দরকার যাতে ঘাটতি কমানো সম্ভব হয়। এই নতুন পরিসংখ্যান দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক জটিল চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে ভারত কিছু পণ্য চীনে সফলভাবে বেচতে শুরু করেছে, অন্যদিকে আমদানিতে ভারসাম্যের অভাবে বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।




