Article By – সুনন্দা সেন

চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথম মাস বা এপ্রিল মাসে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি প্রায় ২০% কমিয়েছে। মার্চ মাসে রেকর্ড বৃদ্ধির পর হঠাৎ পতন স্বাভাবিকভাবেই বাজারে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করে। অবশ্য মার্চ মাসে ভারতব্যাপক হারে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল কিনেছিল। আর তার কারণ হিসেবে উঠে আসে তুলনামূলক কম দাম, সহজলভ্য কার্গো এবং কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সাময়িক শিথিলতা। কারণ ছিল তুলনামূলক কম দাম, সহজলভ্য কার্গ (Temporary Relaxation) এবং কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সাময়িক শিথিলতা। যাতে অনেকেই বলছে ‘ওপারচুনিটি বাইং (Opportunity buying)’ বা সুযোগ বুঝে ক্রয়।
তবে এপ্রিল মাসের চিত্রটা পুরোপুরি বদলে যায়। তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক গড় আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। আর সেগুলি হল –
- সরবরাহে ব্যাঘাত, রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনালে হামলার ফলে লোডিং এবং শিপমেন্টে সমস্যা তৈরি হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে তেল আসতে পারেনি, যার সরাসরি প্রভাব দেশের আমদানির ওপর।
- পশ্চিম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা হলো দ্বিতীয় কারণ। ইরানকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং সংঘাতের প্রভাব গোটা তেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর পড়েছে। এছাড়া ভারত বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।
- তৃতীয় কারণটি হল কূটনৈতিক ভারসাম্য। ভারত একদিকে সস্তায় জ্বালানি আমদানি করতে চায়, বিশেষ করে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিসকাউন্টে তেল কেনা তার জন্য লাভজনক। কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও জরুরি।
এপ্রিলের এই ২০% পতন মানেই যে ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিচ্ছে, তা নয়। এখনও রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারীদের মধ্যে অন্যতম। মোট আমদানির বড় অংশই এখনও রাশিয়া থেকে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত অস্থায়ী। মার্চ মাসে অতিরিক্ত কেনাকাটার পর এপ্রিলে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে। তবে বিশ্ব রাজনীতি, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিষেধাজ্ঞা, এই সবকিছু মিলিয়ে ভবিষ্যতেও তেলের বাজারে এমন ওঠানামা চলতেই থাকবে।




