Article By – সুনন্দা সেন

এশিয়ার জ্বালানি বা এনার্জি বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এশিয়ান দেশগুলির আমদানি নীতির ওপর। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায় পৌঁছেছে যে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এশিয়ার রাশিয়ান ফুয়েল আমদানি ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় এশিয়ার দেশগুলো একত্রে প্রতিদিন প্রায় ৬ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি রাশিয়ান ফুয়েল আমদানি করছে। টন হিসেবে হিসাব করলে তা ৩০ লক্ষ টনেরও বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা বিশেষভাবে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে। ইরান ও ইসরায়েল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্থ এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রিফাইনারি ও LNG প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে এশিয়ান দেশগুলি বিকল্প উৎস খুঁজছে, আর আগে থেকেই রাশিয়ান ক্রড এশিয়ান দেশগুলির কাছে নির্ভরযোগ্য ও সস্তা হওয়ায় ওই দিকে ঝুঁকছে।
এশিয়ার মধ্যে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া সবচেয়ে বেশি রাশিয়ান ফুয়েল কিনছে। প্রধানত জাহাজের মাধ্যমে বা জলপথে বাধা সত্ত্বেও ওই পথেই লেনদেন চলছে। অন্যদিকে ভারত ও চীন রাশিয়ার ফুয়েল ব্যবহার করছে, যা তাদের রিফাইনারি চালাতে সহায়ক। বাজারের প্রভাবও চোখে পড়ার মতো। রাশিয়ার এই অতিরিক্ত সরবরাহ সাময়িকভাবে জ্বালানির দাম কিছুটা কমিয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। কারণ গ্লোবাল মার্কেট এখনও অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ এশিয়ার দেশগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত উৎস থেকে সরবরাহের বিকল্প খুঁজছে, আর রাশিয়া তাদের জন্য ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ শক্তি সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।




