Article By – সুনন্দা সেন

আন্তর্জাতিক বানিজ্যে যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে ভারতের কৃষি অর্থনীতিতে (Agricultural Economics)। বিশেষ করে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের গম উৎপাদনকারী চাষিরা এখন বড় ধরনের লজিস্টিক ও বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। প্রচলিত সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যহত হওয়ায়, তারা বাধ্য হচ্ছেন বিকল্প পথ খুঁজতে এবং সেই বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে সীমান্তবর্তী রুট। ব্যবসায়িক সূত্রে জানা যাচ্ছে, যুদ্ধ সংক্রান্ত কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে গম পরিবহনের স্বাভাবিক পথগুলোতে বিলম্ব, খরচ বৃদ্ধি এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কৃষক ও ট্রেডাররা দ্রুত সীমান্ত এলাকার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন শুরু করেছেন, যাতে বাজারে সরবরাহ বজায় রাখা যায়। তবে এই নতুন রুট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে খরচও বেড়ে যাচ্ছে। পরিবহন খরচ, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সময়ের অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে লাভের মার্জিনে চাপ পড়ছে। ছোট ও মাঝারি কৃষকদের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে, কারণ তাদের পক্ষে অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন।
অন্যদিকে এই পরিবর্তন বাজারে গমের দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সরবরাহ চেইন অস্থির হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে দামের তারতম্য (Price Variation) দেখা যাচ্ছে। কিছু এলাকায় দাম বাড়ছে, আবার কোথাও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি একটি বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারতের কৃষি বাণিজ্য ধীরে ধীরে আরও নমনীয় এবং ডিসেন্ট্রালাইজ কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট রুট বা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে, একাধিক বিকল্প পথ তৈরি করার প্রবণতা বাড়ছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা টেকসই করতে হলে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত লজিস্টিক অবকাঠামো, সীমান্ত বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ সহজ করা এবং কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা -এই সব পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠতে পারে। আর যুদ্ধের প্রভাবে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি শুধু একটি অস্থায়ী চ্যালেঞ্জ নয়, বরং ভারতের কৃষি বানিজ্যের অবকাঠামোতে একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের সূচনা।




