Article By – সুনন্দা সেন

বর্তমানে ভারত ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মান প্রায় ৮,৫০০ থেকে ৯,০০০ মিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে ভারতের রপ্তানি প্রায় ৫.৫ – ৫.৮ বিলিয়ন ডলার এবং কানাডা থেকে আমদানি ৩.১ – ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ভারত প্রধাণত ফার্মাসিউটিক্যালস, যন্ত্রাংশ ও যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক ইনস্ট্রুমেন্টস, রসায়ন ও রত্ন / জহরত, টেক্সটাইল এবং সি-ফুড কানাডায় রপ্তানি করে। কানাডা থেকে ভারত ডাল (পালস), সার (পটাশ), খনিজ / খনিজ দ্রব্য, কাঠপুল্প এবং কিছু রাসায়নিক পণ্য আমদানি করে। যার দরুণ গত কয়েক বছর ধরে ভারত ও কানাডার সম্পর্ক স্থিতিশীল ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনও এটি বিশ্বের অন্যান্য বড় বাণিজ্যিক সম্পর্কের তুলনায় অনেকটাই ছোট।
বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই দুই পক্ষ মুক্ত বানিজ্য বা বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা করছে। যার লক্ষ্য হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক বানিজ্যকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ করা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আজকের বৈঠকেই এই আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে চলেছে এবং তারা আশা করছে চুক্তিটি ২০২৬ সালের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হবে। সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কও আলোচনার মাধ্যমে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক সেই সকল প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আর চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক কমতে পারে, পণ্য ও পরিষেবা রপ্তানি সহজ হবে এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু মানেই তা দ্রুত চূড়ান্ত হবে, এমন নয়। সাধারণত এই ধরনের চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা, খসড়া বিনিময় এবং নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। তবে CEPA বাস্তবায়িত হলে পণ্য ও পরিষেবা রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। সাথে বিনিয়োগের নতুন পথের সৃষ্টি হবে; এতে কৃষি, ফার্মা, প্রযুক্তি, পরিষেবা, খনিজ ও এনার্জি খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। ভারত ও কানাডার ক্ষেত্রে সুবিধাগুলি হল –
| ভারতের জন্য | কানাডার জন্য |
| বৃহৎ কানাডীয় বাজার | ভারতীয় বাজারে উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন ইন্টারমিডিয়েটস ও প্রসেস প্রোডাক্ট |
| কৃষি পণ্য (ডাল, খাদ্যশস্য) ও কাঁচামাল আমদানি | প্রযুক্তি, শিক্ষা ও পরিষেবা খাতে সম্প্রসারণ |
| পরিষেবা রপ্তানিতে সুযোগ এবং প্রযুক্তি ও উদ্যোগে সহযোগিতা | এনার্জি ও খনিজ সম্পদে উন্নত রপ্তানি সুযোগ |




