Article By – সুনন্দা সেন

৯জুলাই, ২০২৫-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তামার আমদানিতে ৫০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। সাথে এক বছর পর ওষুধ আমদানিতে ২০০% শুল্ক আরোপের বিষয়েও বলেছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই ধরণের পণ্যের ম্যানুফেকচারিং এবং প্রডাকশন উন্নত করা। যা ভারতের মতো অন্যান্য অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলবে। যারা বিভিন্ন দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ রপ্তানি করে। তামা ভিত্তিক পণ্য উপাদানে ভারত একটি উদীয়মান বাজার। আর জেনেরিক ওষুধ ম্যানুফেকচারদের মধ্যে একটি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা বাজারে ওষুধ পণ্য রপ্তানি করে।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ১ আগস্ট, ২০২৫ থেকে তামা (copper) আমদানির উপর ৫০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন। আর সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন মন্ত্রীসভার বৈঠকে, ট্রাম্প একবছরের মধ্যে ওষুধ আমদানিতে ২০০% শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন। এই ঘোষণাগুলি ট্রাম্পের সুরক্ষাবাদের ঘোষণাগুলির থেকেও বিস্তারিত পরিসরের জন্য প্রমাণিত হয়েছে। আর তামা ও ওষুধ রপ্তানিতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাজার হয়ে উঠেছে। বর্ধিত শুল্ক হার মার্কিন বাজারকে লক্ষ্য করে এই ইন্ডাস্ট্রিগুলিতে কর্মরত ভারতীয় কোম্পানিগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে। যেমন–
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী ভারতের তামা এবং তামাজাত পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়ে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৭%। সৌদি আরব এবং চীনের পর US ভারতকে তৃতীয় বৃহত্তম তামা রপ্তানি বাজার হিসেবে স্থান দেয়। যদি ট্রাম্প প্রশাসন নিজস্ব তামার খনির কাজ বৃদ্ধি করে এবং ধাতুর মজুদ শুরু করে, সেক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা ভারতে তামার দাম এবং ম্যানুফেকচারিং খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল কপার অ্যাসোসিয়েশন ইন্ডিয়ার MD ময়ূর কর্মকার বলেছেন, প্রস্তাবিত শুল্কের ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিভিন্ন কারণবশত ইতিবাচক রয়েছে।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ওষুধ পণ্যের রপ্তানি করেছে। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৯.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যানগুলি স্পষ্টভাবে দেখায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় ওষুধ এবং ঔষধপণ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। যদি ট্রাম্প ২০০%-এর শুল্ক হার কার্যকর করেন, সেক্ষেত্রে ভারতের জেনেরিক ওষুধ শিল্প (generic medicine industry) বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিগুলি যে মূল্য সুবিধা ভোগ করছে তার উপর প্রভাব পড়বে।




