Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের জ্বালানি নীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনল কেন্দ্র সরকার। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কয়লা রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিরাপদভাবে মেটানোর পর উদ্বৃত্ত কয়লা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব। এই সিদ্ধান্ত ভারতের শক্তি ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক কৌশলে নতুন দিগন্ত খুলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশীয় কয়লা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোল ইন্ডিয়া ও বেসরকারি খনি সংস্থাগুলির উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কয়লা স্টক নির্ধারিত নিরাপদ সীমার অনেকটাই উপরে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উদ্বৃত্ত কয়লা রপ্তানির মাধ্যমে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে, অন্যদিকে খনি সম্পদের আরও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশীয় কয়লা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোল ইন্ডিয়া ও বেসরকারি খনি সংস্থাগুলির উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কয়লা স্টক নির্ধারিত নিরাপদ সীমার অনেকটাই উপরে রয়েছে। এছাড়া তারা কয়লা রপ্তানির অনুমোদন ভারতের জ্বালানি নীতিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ এটি শুধু বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়াবে না বরং দেশের শক্তি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে।
সরকার স্পষ্টভাবে আরও জানিয়েছে, দেশের এনার্জি নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। ঘরোয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজন মাথায় রেখেই রপ্তানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও কার্বন নিঃসরণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলিও বিবেচনায় রাখা হবে। এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশ এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার ওপর নির্ভরশীল। সেই দেশগুলির কাছে ভারতীয় কয়লা একটি বিকল্প উৎস হিসেবে উঠে আসতে পারে। এর ফলে খনি শিল্প, রেল পরিবহণ, বন্দর ও লজিস্টিক্স খাতে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।




