গত মাসেই ছিল আয়কর জমা করার সময়। করদাতাদের কাছে বরাবরই এই প্রক্রিয়া জটিল, বিশেষ করে যারা নবিন। তবে আসল কথা হল Income Tax Return (ITR) ফাইল করার প্রক্রিয়ায় সাধারণ বেশ কিছু ভুল করে থাকে যার কারণে জটিল মনে হয়। অর্থাৎ সেই ভুল যদি না করা হয় তবে প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে উঠবে এবং অনেক দ্রুত সম্পন্নও করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সঠিক উপায় ITR ফাইল না করতে পারার জন্যেই করদাতারা জরিমানা, অবাঞ্ছিত দেরি এবং নোটিশের সম্মুখীন হতে হয়। আর যদি কোনো কারণে আয়কর জমা না পড়ে সেটাও হবে অপরাধ। কারণ – (i) কর কাঠামোর আওতায় বেতন হলে কর দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক। (ii) আয়কর না দিলে ইনকাম সার্টিফিকেট পাওযা যায় না। (iii) যার দরুণ ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং ঋণের প্রয়োজন পড়লে তা পাওয়াও যায় না। তবে চলুন ত্রুটিগুলি কী কী তা দেখে নেওয়া যাক। –

- প্রথমেই নিস্চিত করতে হবে যে, আয়ের বিবরণ, কর ছাড়ের প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি আয়কর ফাইল করার আগে সফ্টকপি বা হার্ডকপি আপনার কাছে রয়েছে।
- সাথে কর ছাড় সম্পর্কিত ডকুমেন্ট, রসিদ সহ প্রমানপত্র আবশ্যক প্রমাণ হিসাবে।
- কোন ক্ষেত্র থেকে কতটা আয় আসছে তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ বেতন বাবদ কত, বিনিয়োগ বা সেভিংস থেকে কত পাচ্ছেন তার নির্ভুল হিসাব।
- ত্রুটিহীন ব্যক্তিগত তথ্য আবশ্যক। অর্থাৎ প্রয়োজনে যাচাই করলে নাম, ঠিকানা, প্যান এবং ব্যাংক ডিটেলসে যেনো কোনো ফাঁক না থাকে।
- 26 AS ফর্ম- এর সাথে ফর্ম 6- এর TDS বিবরণ মিলছে কিনা সেটা যাচাই আবশ্যক।

- আপনি যদি 80C, 80D –এর মতো ধারার অধীনে কর ছাড়ের দাবি করার যোগ্য হলে অবশ্যই সঠিকভাবে কর ছাড়ের দাবি করুন। ভুল কর ছাড়ের দাবি করা হলে আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। তাই কর ছাড়ের আবেদন করার আগে আয়কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
- অবশ্যই আয়কর রিটার্ন ভেরিফাই করে নিন। আর যদি আয়কর রিটার্ন ভেরিফাই করতে আপনি ব্যর্থ হোন। সেক্ষেত্রে ফাইলিং ইনভ্যালিড করে দেওয়ার ভয় থাকে।
- জমা দেওয়ার আগে আপনার আয়কর রিটার্নে কোন ত্রুটি রয়েছে কী না, তা যাচাই করার জন্য খুঁটিনাটি যাচাই করে নিন। আর আপনি যদি এই কাজ না পারেন তবে একজন কর বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।
অনেক বিনিয়োগ বিকল্পের মধ্যে বেশির ভাগ সরকারি স্কিমে কর ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া শেয়ার বাজার এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড একটি অনিশ্চিত বিনিয়োগ বিকল্প। এই দুই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার পর সম্পূর্ন ভাবে ভুলে গেলে চলে না। আবার সব সময় বিশেষজ্ঞদের রিসার্চ অনুযায়ী ফলাফল নাও হতে পারে। তাই এই দুই বিনিয়োগ বিকল্প দেশের সব থেকে বড় ঝুঁকি যুক্ত বিনিয়োগ বিকল্প হয়ে উঠেছে। ঠিক একই কারণে অনেকেই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে ভয় পান। আর এমন বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে Central Government schemes। আর এই সকল সরকারি স্কিমে বিনিয়োগ করার জন্য কোনো প্রকার বাজার বিষয়ক জ্ঞান প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে ভারত সরকার স্কিম চালু করেছেন। আর সেই সমস্ত Central Government schemes -এর মধ্যে আপনার জন্যে কোন স্কিমটি সঠিক, স্কিমগুলি কী কী সুবিধা প্রদান করছে এবং কত দিন বিনিয়োগ করা উচিত হবে? [জানতে এক্ষুনি লিংকে ক্লিক করুন]।
সরকারি প্রকল্পের কোর্স
Article By – সুনন্দা সেন



