কেবল বর্তমান নয়, নিজের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করাও আমাদের লক্ষ্য হওয়া দরকার। আর ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার প্রথম পদক্ষেপ হল জীবনের প্রারম্ভিক কাল থেকে বিনিয়োগ। বাজারে বিভিন্ন প্রকার বিনিয়োগ বিকল্প রয়েছে অবসর জীবনের আর্থিক সংকট দূর করার জন্য। অনেকেই সেই সকল স্কিমে বিনিয়োগ করলেও, এক বিশাল সংখ্যক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চান না বলে বিনিয়োগ করে উঠতে পারেন না। এছাড়া অনেক স্কিম ঝুঁকি মুক্ত এবং নিশ্চিত রিটার্ন দিলেও নূন্যতম বিনিয়োগ মূল্য এতটাই হয় যে, ভয়ে অনেকেই পিছিয়ে আসেন। আর এই সকল অসুবিধার কথা মাথায় রেখে দেশের কেন্দ্রীয় সরকার Pension Scheme গুলি চালু করেছে।

PPF (Public Providend Fund), অটল পেনশন যোজনা (APY) এবং NPS বা National Pension Scheme সহ বিভিন্ন পেনশন স্কিম চালু করেছে ভারত সরকার। আর এই প্রত্যেক সরকারি স্কিম একে অপরের থেকে আলাদা। তবে বর্তমানে শেয়ার বাজার, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীরা যে ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা বহন করেন, তা ভবিষ্যত আর্থিক জীবন সুরক্ষিত করলেও প্রবলেম এবং দুশ্চিন্তা নিয়ে আসে বর্তমানে। এছাড়া এই দুই বিনিয়োগ বিকল্পে নিশ্চিত রিটার্ন না পাওয়ার আশঙ্কা অনেকটা থাকে। তাই আপনারা চাইলে Central Government Scheme– এ বিনিয়োগ করতে পারেন। যা পোস্ট অফিস স্কিম নামেও পরিচিত। অবশ্য কেবল অবসর গ্রহণের পরের জীবনের কথা ভেবে নয়, কন্য সন্তানের ভবিষ্যত, ইচ্ছে পূরণ, কারিগরদের সাহায্যের জন্যেও অসংখ্য স্কিম চালু করেছে দেশের কেন্দ্রীয় সরকার। আপনারা চাইলে এক্ষুনি জানতে পারেন স্কিম গুলির বিষয় বিস্তারিত। [তবে তার জন্য ক্লিক করতে হবে লিংকে]

তবে এক্ষেত্রে আমরা বলবো আগামী দিনের জীবন আর্থিক রুপে নিশ্চিত করার জন্য যদি অর্থ বিনিয়োগ এখন থেকে শুরু করতে চান, সেক্ষেত্রে অন্যতম সেরা ও সুরক্ষিত স্কিম হল ন্যাশনাল পেনশন স্কিম। আপনি যদি চাকরি শুরু করার পর থেকেই এই স্কিমে বিনিয়োগ করেন, তাহলে ৬০ বছর পরে বাড়িতে বসেই পেতে পারেন মোটা অংকের পেনশন। সরকারি স্কিম হওয়ায় NPS- এ আর্থিক ঝুঁকি নেই অথচ ভাল রিটার্ন প্রদান করে। আর স্কিমটি তে চক্রবৃদ্ধির হারে সুদ পাওয়া যায়। ন্যাশনাল পেনশন স্কিমের দুটি ভাগ রয়েছে। যার একটি হল টায়ার-১ ও দ্বিতীয়টি হল টায়ার-২।
আজ আমরা জানবো যদি ২২ বছরের কেউ যদি NPS- এ ২৫০০ টাকার SIP শুরু করে তবে ৬০ বছর হওয়ার পর ব্যক্তিটি কত টাকা পাবেন? চলুন তবে উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক:- মিস্টার A, ২২ বছর বয়সে NPS- এ বিনিয়োগ সুরু করেন। তিনি মাসিক ২,৫০০ টাকা জমা করে SIP- এর মাধ্যমে। আর যদি ধরেনি স্কিমটি ১০% সুদের হার অফার করে তো ৩৮ বছর পর মিস্টার A মোট ৬,৬০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করবেন। আর তিনি সুদে – আসলে স্কিমে মোট ২৩,৮২,৯৩৪ টাকা জমা করতে সক্ষম হবেন। যার মধ্যে ১৭,২২,৯৩৪ টাকা পাবেন সুদ হিসাবে। আমরা জানি ৬০ বছর পর বিনিয়োগকারী ৬০% অব্দি অর্থ তুলে নিতে পারেন। তবে বাকি ৪০% বিনিয়োকৃত অবস্থায় থাকে, যা থেকে মাসিক পেনশন লাভ করে। এক্ষেত্রেও যদি মিস্টার A ৪০% অর্থ অ্যাকাউন্টে রাখেন তবে ৯,৫৩,১৭৩.৬ টাকা বিনিয়োকৃত অবস্থায় থাকবে এবং এর সাপক্ষে তিনি মাসে প্রায় ৫০ হাজার করে পেনশন পাবেন।
সরকারি প্রকল্পের কোর্স
Article By – সুনন্দা সেন



