Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে সরকারি মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলোর (IOC, BPCL, HPCL) চলমান আর্থিক ক্ষতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই মুহূর্তে তাদের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা বেইলআউট প্যাকেজের প্রস্তাব বিবেচনাধীন নেই। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করলেও দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা দাম অনেকটাই স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো প্রতি লিটার জ্বালানিতে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে শিল্প মহল জানাচ্ছে।
বিশেষ করে ডিজেলের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি বলেই অনুমান করা হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, পাম্পের দামে কোনো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই এবং একই সঙ্গে তেল বিপণন সংস্থাগুলোর ক্ষতি পূরণের জন্য কোনো সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও নেই। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক তেলের দামের অস্থিরতা, ডলারের শক্তি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ—এই তিনটি কারণে সরকারি তেল কোম্পানিগুলোর উপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।
তবে সরকার চাইছে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির বোঝা না চাপাতে, সেই কারণেই খুচরা জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ক্ষতি সামাল দিতে সংস্থাগুলো কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প আয় বৃদ্ধির পথ খুঁজছে। যেমন বাল্ক বিক্রয়, শিল্পক্ষেত্রের জ্বালানি সরবরাহ এবং কিছু বিশেষ ফুয়েল সেগমেন্টে মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না কমে, তাহলে এই ক্ষতির চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে আপাতত সরকারের অবস্থান পরিষ্কার এবং বাজারের স্থিতিশীলতাই অগ্রাধিকার।




